সাভারে এসআইকে পিটিয়ে হত্যা: অটোচালকের সঙ্গে তর্কই ডেকে আনল ভয়াবহ পরিণতি
গাড়ি পার্কিং নিয়ে এক অটোচালকের সঙ্গে সামান্য কথা কাটাকাটি থেকে শুরু হওয়া তর্ক শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে। এই তর্কের জেরে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এক উপ-পরিদর্শককে (এসআই) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলেও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সাভার মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) জাহাঙ্গীর আলম সংবাদমাধ্যমকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সাভার থানা পুলিশ জানায়, আমিন বাজারের বড়দেশীর ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এসবি ব্রাঞ্চের ডিএমপিতে কর্মরত এসআই মো. আলতাফ হোসেনকে তুচ্ছ ঘটনার জেরে সৃষ্ট মারামারির পর পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার বিপি নং-৬৮৮৬০৫০৬০০, এসবি আইডি নং-৬২৬৮। তার বাবার নাম জুবায়ের আলী শেখ। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানার বাসিন্দা। তিনি আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামের মদিনাসিটি এলাকায় স্ত্রী শিউলি পারভিন ও ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। বাসার পাশেই তার মালিকানাধীন একটি ছোট গার্মেন্টস কারখানা ছিল।
শনিবার রাত ১০টার পর গাড়ি পার্কিং নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে গভীর রাতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল গার্মেন্টস কারখানাটি ভাঙচুর ও লুটপাট করা শুরু করে। এ সময় তিনি ও তার ছেলে বাধা দিলে তাদের উপর্যুপরি লাঠিসোঁটা দিয়ে পেটানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা সারওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতেই আলতাফ মারা যান, তার ছেলে আরিফ এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ডিএমপিতে কর্মরত আলতাফ হোসেন আমিন বাজার বড়দেশী এলাকার মো. আলামিনের বাসার ভাড়াটিয়া ছিলেন। একই এলাকায় ৫ শতক নিজস্ব জায়গায় তার টিনশেড বাসায় একটি কারখানায় স্বল্প পরিসরে ট্রাউজার ও গেঞ্জি তৈরি করা হয়। ওই কারখানার সামনে কারখানার মালামাল বহনকারী অজ্ঞাতনামা অটোচালকের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কি শুরু হয়। ওই তর্কের জেরে অটোচালক আরও ১৫ থেকে ২০ জন লোক নিয়ে এসে গার্মেন্টসে ভাঙচুর ও হামলা চালায়।
এ সময় তারা আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে মো. আরিফকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতেই আলতাফের মৃত্যু হয়। তার ছেলে আরিফ চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের ভাষ্যমতে, আলাউদ্দিন নামের একজন প্রথমে আরিফুলকে মেঝেতে ফেলে বুকে লাথি মারেন। পরে পেছন থেকে কেউ ভারী কিছু দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে যান। একই সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আলতাবকে মারধর করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করেন। এরপর তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
আলতাবের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, গতকাল শনিবার ছুটি থাকায় তাঁর বাবা বাড়িতে ছিলেন। সেখানে থেকে তিনি কারখানায় গিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার আছে, যেটা তাদের কারখানার সামনে দিয়ে প্রতিনিয়ত ঘোরাফেরা করে। গাড়িতে চালকসহ চার থেকে পাঁচজন থাকেন। তাদের কারখানার বাম পাশে একটা জায়গায় বালু ফেলায় একটা মাঠের মতো হয়েছে। সেখানে তাঁরা নেশা করেন। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিহতের কারখানার সামনে গাড়ি পার্কিং করাকে কেন্দ্র করে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটেছে। গাড়ি চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও এই তর্কটি ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।
এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। তার নাম জহুরুল ইসলাম (৩০), পিতা- মোসলেম উদ্দিন, মাতা রুপবানু। তিনি বড়দেশী গ্রামের বাসিন্দা।
তিনি আরও বলেন, ভোর সাড়ে ৪টায় আমিনবাজার টেনারি পুলিশ ফাঁড়ি ও সাভার পুলিশের যৌথ অভিযানে জহুরুল ইসলামকে আটক করা হয়। আটক আসামি বর্তমানে সাভার মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে আছেন। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা রুজু হয়নি।
মতামত দিন