সাত দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে হার মানল গুলিবিদ্ধ রেশমি
চট্টগ্রামের বায়েজিদে দুই পক্ষের গোলাগুলির মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ হওয়া সেই তরুণী রেশমি আক্তার (২০) মারা গেছে। টানা সাতদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল পৌনে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দিন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রেশমি আক্তার প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিল। সকালে সে মারা গেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলি এলাকায় নিজের ঘর থেকে মায়ের জন্য পান আনতে বের হয়েছিল রেশমি। ওই সময় এলাকায় সন্ত্রাসীদের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক গোলাগুলি চলছিল। ঘর থেকে বের হওয়া মাত্রই একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট বুলেট রেশমির চোখে এসে লাগে। তাৎক্ষণিকভাবে সে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে।
গোলাগুলি থামার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে চমেক হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, বুলেটের আঘাতে তার মাথার ভেতরে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। এক সপ্তাহ অচেতন অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে থাকার পর অবশেষে আজ সকালে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় এলাকায় চার থেকে পাঁচ মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ চলে। আশপাশের লোকজন ভয়ে সরে গেলেও রেশমী নিজেকে আড়াল করতে পারেনি। এদিন সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাজু নামে এক যুবকও ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে