ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রূণ নষ্ট করার মামলায় শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান গ্রেপ্তার
কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, জিসান বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে আজই তাকে আদালতে নেওয়া হতে পারে।
এর আগে শুক্রবার রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দাউদকান্দি থেকে জিসান প্রধান অপহৃত হননি। এক নারীর করা ধর্ষণের অভিযোগ ও বিয়ের চাপ এড়াতে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তিনি দাবি করেছিলেন, তাকে গাড়িতে করে অপহরণ করা হয়েছিল।
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২০ মে জিসান দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তার গর্ভপাত করানো হয়।
এরপর ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান শুক্রবার বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দেন। কিন্তু বিয়ে এড়াতে বৃহস্পতিবার তিনি আত্মগোপনে যান। ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদকে দিয়ে থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করানো হয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
জিসানকে উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর শুক্রবার রাতেই ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ এনে জিসানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
২৮ বছর বয়সী জিসান প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন।
এদিকে, ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও শিবির নেতা এস এম ফরহাদ এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, জিসানকে ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মতামত দিন