শেরপুরে বন্যায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, পানিবন্দি ৬০ হাজার মানুষ
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর ভারী বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট বন্যায় শেরপুরে ৩ জন মারা গেছেন। বৃষ্টিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, নোকলা ও শ্রীবরদী উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের ১২২টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
শুক্রবার (৪ অক্টোবর) ভোর থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে এবং নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত ৬০ হাজার মানুষ।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা জানিয়েছেন, নালিতাবাড়ী উপজেলায় আশ্রয় নিতে গিয়ে এক নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
সেনাবাহিনী স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে এবং ফায়ার সার্ভিসের সাথে আটকে পড়াদের উদ্ধোরে কাজ করছে। এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ঝিনাইগাতীর দীঘিরপাড় গ্রামে র্যাপিড রেসপন্স বিডির (আরআরবিডি) স্বেচ্ছাসেবীরা একটি বাড়ির ছাদ থেকে ৩ মাস বয়সী শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করেছে।
নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতীর সবকটি ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ফসল, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। রাস্তাগুলো ডুবে গেছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন স্কুলগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করেছে। কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে পৃথক কয়েকটি টিম।
ইউএনও মাসুদ রানা জানান, নালিতাবাড়ী পৌরসভাসহ সব ইউনিয়ন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গড়কান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তারাগঞ্জ মহিলা মাদ্রাসাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খোলা হয়েছে। স্পিডবোট ও লাইফ জ্যাকেটসহ জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান জানান, নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভোগাই, চেল্লাখালী ও মহর্ষি নদীর ধারে বেশ কয়েকটি বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এসব এলাকার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে