শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার সঙ্গে ভারত সরকারের কোন সম্পর্ক নেই: জয়সওয়াল
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, আয়োজনটি একটি বেসরকারি সংস্থার এবং এতে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জয়সওয়াল বলেন, ওই ফোরামে কোনো মতামত প্রকাশ করা হলে ভারত সরকার তার কোনোটিই সমর্থন করে না; এটি সম্পূর্ণভাবে একটি বেসরকারি উদ্যোগ।
আগামীকাল বুধবার (৫ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার আয়োজনে একটি সংবাদ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে কথা বলার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পূর্তির দিনেই এই আয়োজন হতে যাচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে আসার জন্য তাঁকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
এদিকে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো গণমাধ্যম যেন শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করে, সেই আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আদালতের আদেশ অমান্য করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এর আগেও এ বিষয়ে গণমাধ্যমের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছিল সরকার। কেউ যদি আগাম প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং পরে তা প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তাহলে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই ভারতের লোকসভায় উপস্থাপিত পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে।
সোমবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকেও হাসিনার প্রস্তাবিত বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানানো হয়, যেখানে বলা হয় এই ভাষণ দুই দেশের সাম্প্রতিক সম্পর্কোন্নয়নে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা, এরপর থেকে তিনি সেখানেই রয়েছেন। গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। তাঁকে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ একাধিকবার ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে।
মতামত দিন