ধীর গতির ইন্টারনেটে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক
যশোরে টানা ১০ দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকার পর যে গতীর ইন্টারনেট চালু করা হয়েছে তা এখনো নামকাওয়াস্তে। এর ফলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের বিনিয়োগকারীরা। যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কর ইনভেস্টার অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, গত ১৫ দিনে তাদের ৪৫টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, এত দিন বন্ধ থাকার পর যে গতীর ইন্টারনেট তারা পাচ্ছেন তাতে শুধুমাত্র ফেসবুকিং আর কিছু ওয়েবসাইট ব্রাইজিং করা যায়। এটা দিয়ে কোনো ফাইল আপলোড করা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১ মাসের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে অনেক প্রতিষ্ঠান। সেই সঙ্গে চাকরি হারাবে হাজারো মানুষ, বাড়বে বেকারত্ব।
বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্টরা জানান, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন এবং আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ-সহিংসতার ঘটনায় দেশে এখন যে ধীরগতির ইন্টারনেট চলছে, তা অনলাইন কেন্দ্রিক সব ধরনের কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে। এখন ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল ইন্টারনেট চালু করা হলেও তা এতটাই ধীরগতির যে সেই অর্থে কোনো সুফল দিচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কেন্দ্র করে ঘরে ঘরে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের যে জোয়ার তৈরি হয়, তা পুরোপুরি থমকে গেছে। এমনকি অনলাইনে স্বাভাবিক যোগাযোগ করতে না পারায় ভোক্তা শ্রেণি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন উদ্যোক্তারা।
তারা আরও জানান, দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা যশোরে ফ্রিল্যান্সিং কার্যক্রম যত দ্রুত প্রসার লাভ করেছিল, তাতে বড় ধরনের ধস নেমেছে বলা যায়। গত এক দশকে বাংলাদেশের তরুণরা ফ্রিল্যান্সিং করে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এনেছেন, তা দেশের অর্থনীতিতে বড় ভিত তৈরি করেছে। ইন্টারনেট সেবার করুণ দশার কারণে সেই খাত এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
এ বিষয়ে যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের গ্লোবাল আউটসোর্সিং কোম্পানি এসইবিপিওর অ্যাডমিন অফিসার তুষার বলেন, গত ১৫দিনে আমাদের প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আমরা প্রতিষ্ঠান চালাতে পারবো না। যার কারণে চাকরি হারাবে অনেকে।
এ ব্যাপারে যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ইনভেস্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহা জালাল বলেন, আমাদের অ্যাসোসিয়েশনে ৪৫টির মতো প্রতিষ্ঠান আছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকের প্রতিদিন আয় হতো ১ লাখ টাকা। গত ১৫ দিনে আমরা কোনো কাজ করতে পারছি না। আমরা আমাদের বিদেশি সব গ্রাহক হারিয়ে ফেলছি।
তথ্য-প্রযুক্তি খাতের মানুষদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ চালু করার অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, খুব দ্রুত ইন্টারনেট যদি ঠিক না হয় তাহলে যশোর আইটি পার্কের অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। এ মাসে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের বেতন এবং স্পেস ভাড়া দিতে পারবেন না।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে