ম্যাকাউ টেস্ট
ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর শরীফুলের ৬ উইকেটে লড়াইয়ে ফিরল বাংলাদেশ
ম্যাকাউ টেস্টের প্রথম দিনের সকালে মারাত্মক ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে দিনের শেষভাগে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে টাইগাররা, যার নেপথ্যে ছিলেন দলের পেসাররা। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়া সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে দেয়নি বাংলাদেশ। বোলিংয়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখার মূল কারিগর ছিলেন বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম। ব্যাটে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করার পর বল হাতে তিনি শিকার করেছেন ৬টি উইকেট। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ একটি করে উইকেট নেন। প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান তুলে ১০১ রানে এগিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
এর আগে টসে জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সেই সিদ্ধান্ত দ্রুতই সঠিক প্রমাণ করেন অজি পেসাররা। ম্যাচের একদম প্রথম বলেই ওপেনার সাদমান ইসলামকে স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন মিচল স্টার্ক। কোনো রান না করেই গোল্ডেন ডাক মেরে সাজঘরে ফেরেন সাদমান।
নিজের পরবর্তী ওভারেই ডারউইন টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিমকেও শূন্য রানে ফেরান স্টার্ক। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও; লেগ সাইডে বাঁক নেওয়া বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন তিনি। রিভিউ নিয়েও আম্পায়ার্স কলের কারণে শেষ রক্ষা হয়নি তাঁর।
স্টার্কের তৃতীয় শিকার হন মুমিনুল হক (১৬ বলে ৯) । এরপর লিটন দাস স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গেলেও ঠিক পরের বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন। সফল রিভিউর মাধ্যমে তাঁর উইকেটটি নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ১২ রানে ওপরের সারির ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে কিছু দূর টেনে নেন শরীফুল ইসলাম ও তাইজুল ইসলাম। শেষ উইকেটে তাঁরা ২৫ রানের কার্যকরী জুটি গড়েন।
বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৪ রান আসে শরীফুলের ব্যাট থেকে এবং ১১ রানে অপরাজিত থাকেন তাইজুল। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে স্টার্ক ১২ রানে ৬টি এবং প্যাট কামিন্স ৩টি ও হ্যাজেলউড ১টি উইকেট নেন।
তবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়াও। ওপেনার ম্যাট রেনশকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। এরপরই বোলিংয়ে এসে ট্রাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশেনকে দ্রুত সাজঘরে পাঠিয়ে অজিদের চেপে ধরেন শরীফুল।
পরবর্তীতে স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের ৭৭ রানের জুটি বাংলাদেশকে আবারও চাপে ফেলে দিয়েছিল। তবে দারুণ এক স্পেলে স্মিথকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন শরীফুল। এরপর মিরাজ এসে অ্যালেক্স ক্যারিকে আউট করার পর আবারও তাণ্ডব চালান শরীফুল। মাত্র ৬ বলের ব্যবধানে বিউ ওয়েবস্টারকে এলবিডব্লিউ ও প্যাট কামিন্সকে বাউন্সারে আউট করে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম ফাইফার পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি পেসার। পরে মিচেল স্টার্ককেও বিদায় করে নিজের উইকেট সংখ্যা ছয়ে নিয়ে যান তিনি।
দিনশেষে ৩৫ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫১ রান তুলে ৮৭ রানের লিড নেয় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশকে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পরও শরীফুলের এক অসাধারণ স্পেলের কারণে অজিদের লিড বিশাল হতে পারেনি।
একদিকে স্টার্কের ৬ উইকেট, অন্যদিকে শরীফুলের ৬ উইকেট—দুই বাঁহাতি পেসারের দুর্দান্ত স্পেলে ম্যাকাউ টেস্টের প্রথম দিনেই ছড়ালো দারুণ রোমাঞ্চ। হাতে মাত্র ১ উইকেট থাকা অস্ট্রেলিয়ার বাকি অংশটুকু দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে লিড যতটা সম্ভব কম রাখাই হবে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য।
মতামত দিন