ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় শাহরিয়ার কবির বন্দি: লেমকিন
ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় লেখক, গবেষক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকারকর্মী শাহরিয়ার কবির বন্দি রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে গণহত্যা প্রতিরোধ ও মানব নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা ল্যামকিন ইনস্টিটিউট।
গত ৫ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করে সংস্থাটি। শাহরিয়ার কবিরকে গ্রেপ্তার ও পরবর্তীতে আটক রাখার ক্ষেত্রে গুরুতর প্রক্রিয়াগত ‘অনিয়মের’ অভিযোগও করেছে ল্যামকিন।
সংস্থাটি বলছে, শাহরিয়ার কবিরকে ‘স্বাধীনতাবঞ্চিত’ করার পেছনে ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে তার দীর্ঘদিনের অবস্থান, ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা ও একাত্তরে ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনার যোগ রয়েছে। তাছাড়া তরুণদের মধ্যেও তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানবাধিকারকর্মী শাহরিয়ার কবির যাতে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করতে না পারেন, ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে সোচ্চার হতে না পারেন সে জন্য তাকে আটক রাখা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বর্তমান সংকট নিয়ে বিদেশে গিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থেকেও তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন।
গণহত্যা প্রতিরোধ ও মানব নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থাটি বলছে, জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের অনুসন্ধান অনুযায়ী, শাহরিয়ার কবিরের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ‘নির্বিচার গ্রেপ্তারের’ মধ্যে পড়ে।
ল্যামকিন ইনস্টিটিউট বিবৃতিতে বলেছে, ১২ জানুয়ারি এ মামলায় শাহরিয়ার কবিরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে, সেদিন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আসতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার ও আদালতগুলোর ‘আচরণ’ বিবেচনায় নিয়ে শাহরিয়ার কবিরের বিচার বাংলাদেশের সংবিধানের আইনি বিধান বা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হবে, এমন প্রত্যাশা তাদের নেই।
প্রমাণ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হতে পারে এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা সংস্থাটির।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যেখানে রাষ্ট্রপক্ষ সরাসরি শাহরিয়ার কবিরের সঙ্গে এক ধর্মীয় নেতার টেলিভিশন বিতর্কের কথা তোলা হয়। সে সময় রাষ্ট্রপক্ষ প্রকাশ্যেই জানায়, তার আটক মূলত কোনো ‘প্রমাণিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে নয়’, বরং তার ‘রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই’।
ল্যামকিন ইনস্টিটিউটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হেলমেট ও হাতকড়া পরিয়ে আদালতে হাজির করার সময় শাহরিয়ার কবির ‘মব’ হামলার শিকার হয়েছেন, তাকে গালিগালাজও করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, ‘মব’ হামলার সময় শাহরিয়ার কবিরকে রক্ষার চেয়ে পুলিশ নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যস্ত ছিল। আদালত কর্তৃপক্ষ তাকে হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে দেননি; এজলাশকক্ষে যাওয়ার জন্য লিফট ব্যবহারে বাধা দেওয়া হয়; আদালতের কার্যক্রম চলার সময় বসতে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এছাড়া নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না করে তার পছন্দের আইনজীবী নিয়োগ প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে