Views Bangladesh Logo

শাহজালাল ও শাহপরান মাজার: আর্থিক ‘স্বচ্ছতা’ নিশ্চিতের উদ্যোগ, নান্দনিক কমপ্লেক্সে হবে রূপান্তর

দীর্ঘ সাতশ বছ‌রেরও বে‌শি সম‌য়ের ধর্মীয় ও ঐতিহা‌সিক নিদর্শন হযরত শাহজালাল (রহ) মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসা এবং হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজা‌রের আর্থিক স্বচ্ছতা নি‌শ্চি‌তের উদ্যোগ নেওয়া হ‌য়ে‌ছে। উভয় মাজা‌রের ব‌্যবস্থাপনা কমি‌টি এবং ওয়াকফ এস্টেট কর্তৃপক্ষ যৌথভা‌বে উভয় মাজা‌রসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র নিরূপণ কর‌বেন। পাশাপাশি উভয় মাজারকে আধুনিক ইসলামী কমপ্লেক্সে রূপান্তর করা হবে।

শুক্রবার (১২ জুন) সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশাপাশি মাজার দুটিকে আধুনিক ইসলামী কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও তার ভাগ্নে হযরত শাহপরান (রহ.) এ অঞ্চলে এসেছিলেন তাওহীদের বাণী নিয়ে এবং অন্যায়-জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। তারা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তির সম্পদ নন, বরং তারা গোটা সিলেটবাসীর গর্ব ও আল্লাহর বিশেষ রহমত।

আগামী এক মাস সি‌লেটের জেলা প্রশাস‌নের সমন্ব‌য়ে মাজ‌ারগু‌লোর আয়-ব্যয়ের বাস্তব চিত্র নিরূপ‌ণের মাজার ও ওয়াকফ এস্টেট কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এই কার্যক্রম প‌রিচা‌লনা করবে। সম্প্রতি প‌রিকল্পনা ক‌মিশ‌নের নি‌র্দেশে জেলা প্রশাসক কার্যাল‌য়ে মাজারগুলোর আর্থিক বিষ‌য়ে সং‌শ্লিষ্ট বি‌ভিন্ন প‌ক্ষের বৈঠ‌ক অনু‌ষ্ঠিত হয়।‌ গত বৃহস্প‌তিবার (১০ জুন) অনু‌ষ্ঠিত বৈঠ‌কে মাজারের ব‌্যবস্থাপনা ক‌মি‌টি আয় ব‌্যয়ের হি‌সে‌বের স‌ঠিক তথ্যে উপস্থাপ‌নে ব‌্যর্থ হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হযরত শাহজালালসহ ৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতি বিজড়িত সিলেট অনেকের কাছে ‘আধ্যাত্মিক রাজধানী’ আবার কারও কাছে পুণ্যভূমি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ সিলেট ভ্রমণের পাশাপাশি দুটি মাজার জিয়ারত করেন। এসময় ভক্ত-আশেকানরা অর্থ, সোনা, গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন জিনিস মাজারগুলোতে দান করেন। তবে এসব দানসামগ্রীর কতটুকু মাজারের উন্নয়ন বা হতদরিদ্রদের জন্য ব্যয় হয়; তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে হযরত শাহজালাল মাজার পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিলেটের দুটি বড় ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজার। আমরা এই দুই মাজারকে কেন্দ্র করে কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো এই দুটি প্রতিষ্ঠানকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য মাজারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাজারের ব্যবস্থাপনা, কার্যক্রম এবং সার্বিক পরিবেশকে একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিষয় এবং প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে মাজারে প্রশাসক নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি এই মুহূর্তে বলা মুশকিল। তবে এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মাজারকে একটি আধুনিক ও সুন্দর ইসলামী কমপ্লেক্সে রূপান্তর করা এবং একই সাথে মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাবটা করা। এই হিসাবটি যেন স্বচ্ছ হয় সেই বিষয়ে নজর দেওয়া।

তিনি বলেন, এখন থেকে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হবে।

মাজার পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতিনিধিদেরও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, মাজার পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। প্রতিদিন কত টাকা আয় হচ্ছে, কোথায় ব্যয় হচ্ছে এবং আর্থিক লেনদেনের সকল তথ্য যথাযথভাবে রেকর্ড ও সংরক্ষণ করা হবে।

শাহজালাল (রহ.) মাজার ও শাহপরান (রহ.) মাজারের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর সরকারের নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। পরিদর্শনের সময় হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের মোতাওয়াল্লিগণ এবং জেলা প্রশাসকের নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেটরাও উপস্থিত ছিলেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ