শহীদ বীর সেনানী আব্দুল কাদিরের স্মৃতিস্তম্ভ রক্ষায় ১৪ সদস্যের কমিটি গঠন
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সামরিক কর্মকর্তা ও বুদ্ধিজীবী লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুল কাদিরের স্মৃতিতে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটি রক্ষণাবেক্ষণে ১৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই বীর সেনানীর জন্মভিটা রংপুরের বদরগঞ্জে স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করেন তার পুত্র জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাদিম কাদির। ২০২২ সালে এর উদ্বোধন করা হয়। নবগঠিত কমিটি এই স্মৃতিস্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে কাজ করবে।
কমিটিতে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মশিউর রহমানকে সভাপতি এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক (প্রথম আলো) এম. আলতাফ হোসাইন দুলালকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এতে দুই সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন মো. মাজহারুল মান্নান এবং মো. আইয়ুব খান।
মাটি থেকে দৃষ্টিনন্দন এই স্মৃতিস্তম্ভের উচ্চতা ২৫ ফুট। এর নকশা করেন খ্যাতিমান স্থপতি ডিএন ফাওয়াদ হায়দার। ১৯৭১-এর যুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে অবনত মস্তকে একজোট হয়েছে মানুষ- এমন প্রতীকী রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নকশায়। এর মেঝের কালো রংয়ে মূলত শহীদদের প্রতি শোকস্তব্ধ জাতিকে প্রকাশ করা হয়েছে।
স্মৃতিস্তম্ভটির আকৃতি নৌকার মতো, যা বাংলাদেশের ঐতিহ্য এবং একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রতীক। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে ওই রাজনৈতিক দলটিই নেতৃত্ব দিয়েছিল।
গেল বছরের ২৪ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয় চিকলী নদীর পাড়ে অবস্থিত সৌধে। স্মৃতিস্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণে ফান্ডের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। এর খরচ মূলত স্মৃতিস্তম্ভের পাশের একটি জমিতে চাষকৃত সবুজ মাল্টা এবং ড্রাগন ফলের বাগান থেকেই আসে। সৌধের পাশ দিয়ে একটি সরকারি রাস্তা চলে গেছে। পর্যটকদের আনাগোনা সহজ করতে রাস্তাটির সংস্কার বিষয়ে আলোচনা হয়, যে কাজটি কয়েক বছর ধরে নানা কারণে স্থবির হয়ে রয়েছে।
এ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সিফাত, আইনবিষয়ক সহায়ক সাখাওয়াত উল্লাহ ভূঁইয়া (সুপ্রিম কোর্ট), কোষাধ্যক্ষ সুজন মাহমুদ, অফিস সেক্রেটারি সেলিম সরকার, প্রচার ও আইসিটি সেক্রেটারি এম. মোস্তাফিজুর রহমান। অন্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুর রহমান, সৈয়দ আলী, ইয়াসমিন বেগম, হিরু চন্দ্র রাই এবং শিমুল হাসান।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে