Views Bangladesh Logo

আজ পবিত্র শবে কদর

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। মহিমা, পবিত্রতা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সূর্যাস্তের পর থেকেই সারা দেশে শুরু হবে এই বরকতময় রজনীর আমল ও ইবাদত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সারা রাত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আযকার ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করবেন।

রমজানের শেষ প্রান্তে এসে মুসলিম উম্মাহ গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করে এই মহিমান্বিত রাতের জন্য। ইসলামে লাইলাতুল কদর অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি রজনী। পবিত্র কুরআনে এই রাতের বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আর তুমি কি জানো লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে ফেরেশতারা ও জিবরাইল (আ.) তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে সব সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতীর্ণ হয়। শান্তিময় এ রাত ফজরের সূচনা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে’ (সুরা কদর)।

এই আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, লাইলাতুল কদর এমন এক রাত, যার ইবাদতের মর্যাদা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি। অর্থাৎ প্রায় ৮৩ বছর চার মাসের ইবাদতের সমান সওয়াব এই এক রাতেই অর্জন করা সম্ভব।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এ রাতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য রহমত ও ক্ষমার দরজা উন্মুক্ত করে দেন। সূর্যাস্ত থেকে ফজর পর্যন্ত বান্দাদের জন্য ক্ষমা ও অনুগ্রহের আহ্বান জানানো হয়। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে তওবা করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ লাভ করতে পারে।

ইসলামি ইতিহাসে বর্ণিত আছে, একবার নবীজি (সা.) সাহাবিদের সামনে বনি ইসরাইলের এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যিনি এক হাজার মাস আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছিলেন। তখন সাহাবিরা আক্ষেপ করেন যে তাদের আয়ু এত দীর্ঘ নয়। তখন আল্লাহতায়ালা লাইলাতুল কদরের সুসংবাদ দেন এবং সুরা কদর অবতীর্ণ করেন, যাতে মুসলিম উম্মাহ অল্প সময়ে অধিক সওয়াব অর্জনের সুযোগ পায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোয় লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করার নির্দেশ দিয়েছেন (সহিহ বুখারি)। অনেক সাহাবি রমজানের ২৭তম রাতকে লাইলাতুল কদরের সম্ভাব্য রাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে অধিকাংশ আলেমের মতে, রমজানের শেষ দশকের যেকোনো বিজোড় রাতে এটি হতে পারে।

এ রাতে মুমিনদের উচিত বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, তওবা ও ইস্তিগফার করা এবং আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা। হজরত আয়েশা (রা.) একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি তিনি লাইলাতুল কদর পান তাহলে কী দোয়া করবেন। তখন তিনি এই দোয়াটি শিখিয়ে দেন—
‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; তাই আমাকে ক্ষমা করুন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ