এআই দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় গুগলে বড় রদবদল, জেমিনিকে ঘিরেই বড় পরিকল্পনা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে পাল্লা দিতে গুগল ডিপমাইন্ডে বড় ধরনের নেতৃত্ব পরিবর্তন ও সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস করেছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। এর মধ্যেই গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন এআই বিভাগের কর্মীদের জেমিনি মডেলের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক মাসে একাধিক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে ব্রিন কর্মীদের দ্রুত কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে এআইয়ের অগ্রগতিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে জেমিনিকে শীর্ষ অবস্থানে ফেরানোর ওপর জোর দেন তিনি। এ সময় অ্যানথ্রপিকের ক্লড মিথোস ও ওপেনএআইয়ের অগ্রগতির কারণে গুগলের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বরে জেমিনি কিছু সময়ের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী মডেলগুলোর তুলনায় এগিয়ে গেলেও পরে আবার পিছিয়ে পড়ে। অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় কোডিংসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল ফল পাওয়ায় জেমিনির নতুন ফ্ল্যাগশিপ সংস্করণ প্রকাশও দুই মাস পিছিয়ে যায়। একই সময়ে গুগলের কম্পিউটিং সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের ঘাটতি এবং নতুন মডেল প্রকাশে তুলনামূলক ধীরগতির মতো সমস্যাও সামনে এসেছে।
গত ৫ আগস্ট গুগল ডিপমাইন্ডের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেয় অ্যালফাবেট। এতদিন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডেমিস হাসাবিস দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকে সরে চেয়ারম্যানের ভূমিকায় গেছেন। তাঁর জায়গায় ডিপমাইন্ডের সাবেক প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা কোরে কাভুকচুওগলু দৈনন্দিন পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অ্যালফাবেটের প্রধান এআই স্থপতির দায়িত্বও পালন করছেন।
এই রদবদলের সময় জেমিনির সঙ্গে যুক্ত একাধিক শীর্ষ এআই গবেষকও গুগল ছেড়েছেন। তাঁদের মধ্যে জেফ ডিন, সানজয় ঘেমাওয়াত, ওরিওল ভিনিয়ালস ও কুয়ক লে রয়েছেন। তারা ‘ডিসকভারি লুপ’ নামে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। পাশাপাশি ডিপমাইন্ডের কিছু দলকে গুগলের করপোরেট কাঠামোর অধীনে নেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের গবেষণাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানটির স্বায়ত্তশাসন আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালে গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই কোরে কাভুকচুওগলুকে প্রধান এআই স্থপতির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার পর জেমিনির উন্নয়ন ও গুগলের বিভিন্ন পণ্যে এআই সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বাড়তে থাকে। এখন ডিপমাইন্ডের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও চূড়ান্ত মত দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর হাতে থাকবে।
নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘোষণার পর অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে যায়। পরে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে হাসাবিস ও কাভুকচুওগলু আশ্বস্ত করেন, ডিপমাইন্ডের দৈনন্দিন গবেষণা কার্যক্রমে তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তন আসবে না। তবে জেমিনিকে আবার এআই প্রতিযোগিতার শীর্ষে নিয়ে আসা যে গুগলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে সাম্প্রতিক সাংগঠনিক পরিবর্তনে।
মতামত দিন