আজ সিরাজুল আলম খানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক, স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস এবং বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ)-এর প্রতিষ্ঠাতা সিরাজুল আলম খানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। ২০২৩ সালের ৯ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার পরিবার, সিরাজুল আলম খান স্মৃতি পরিষদ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
১৯৪১ সালের ৬ জানুয়ারি নোয়াখালীর আলীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সিরাজুল আলম খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নকালে ‘কনভোকেশন মুভমেন্ট’-এ অংশ নেওয়ার কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তিনি ১৯৬৩ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৬২ সালে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা গোপন রাজনৈতিক সংগঠন ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ বা নিউক্লিয়াসের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি। ১৯৬২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার আন্দোলন, ১১ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় নিউক্লিয়াসের রাজনৈতিক শাখা হিসেবে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) এবং সামরিক ইউনিট ‘জয় বাংলা বাহিনী’ গঠনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের জেরে তার উদ্যোগে দেশের প্রথম বিরোধী রাজনৈতিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠিত হয়। রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক বিশ্লেষণে তার তাত্ত্বিক অবদানের কারণে তিনি দেশ-বিদেশে ‘রাজনৈতিক তাত্ত্বিক’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসে সিরাজুল আলম খানকে একটি প্রভাবশালী ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে