জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মিঠুকে বিদেশ যেতে বাধা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনগামী একটি নির্ধারিত ফ্লাইটে উঠতে বাধা দেওয়া হয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মিঠুকে।
রোববার (৩ মে) দুপুর ১২টার দিকে ইমিগ্রেশন থেকে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। জার্মান রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডয়চে প্রেস-এজেন্টুর (ডিপিএ)-এর ঢাকা প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম মিঠু বর্তমানে ওভারসিজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ওকাব)-এর সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।
নজরুল ইসলাম মিঠু নিজেই বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানান, বোর্ডিং পাস সংগ্রহের পর ইমিগ্রেশন কাউন্টারে তাকে থামানো হয়। এরপর একজন অভিবাসন কর্মকর্তা তাকে নাম ধরে ডেকে নিয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগের দায়িত্বে থাকা বিশেষ পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে তার পরিচয় ও পেশা সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অভিবাসন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আপত্তির কারণেই তাকে ফ্লাইটে উঠতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “তার পাসপোর্ট ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পর তাকে ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন এসপির অফিসে নেওয়া হয়। সেখানে তার পেশা, কর্মস্থল এবং কোনও মামলায় জড়িত আছেন কিনা— এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও সশস্ত্র বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই’র সদস্যরাও তার সঙ্গে কথা বলেন বলে তিনি জানান।
নজরুল ইসলাম মিঠু বলেন, “দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তাকে জানানো হয় যে— পুলিশের দিক থেকে তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। তবে ডিজিএফআই’র ‘ক্লিয়ারেন্স’ না আসায় ভ্রমণে সাময়িক বাধা দেওয়া হতে পারে।”
তিনি অভিযোগ করেন, তাকে বিদেশে যেতে বাধা দেওয়ার নির্দিষ্ট কোনও কারণ জানানো হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এই বিষয়ে কোনও তথ্য পাননি বলে জানিয়েছেন। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় বিমানবন্দরের যাত্রী লাউঞ্জে অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত তাকে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয় এবং তিনি যাত্রা বাতিল করে ফিরে যান বলে জানান। তিনি দাবি করেন, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণার চলাচলের স্বাধীনতা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদের পরিপন্থি।
এই ঘটনাকে তার চলাচলের মৌলিক অধিকার এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণার ১৩ নং অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে দাবি করেছেন নজরুল ইসলাম মিঠু।
উল্লেখ্য, বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের আহ্বান জানানোর ঠিক একদিন পরেই তাকে এই বাধার মুখে পড়তে হলো।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে