সাংবাদিক আবু হেনা রাসেল আর নেই
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক আবু হেনা আক্তার হোসেন রাসেল (৫৭) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আসাদগেট এলাকায় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবু হেনা রাসেল কর্মজীবনে দৈনিক ভোরের কাগজ, সমকাল ও কালের কণ্ঠে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি খবর সংযোগ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর বাড়ি রাজশাহীতে। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
ক্র্যাব সূত্র জানায়, বুধবার সকালে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে মোটরসাইকেলে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আসাদগেট–সংলগ্ন তালুকদার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে যান তিনি। সেখানে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়লে উপস্থিত লোকজন তাঁকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আবু হেনার ছেলে মিরাজ হোসেন জানান, গত রোববার রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় একটি প্রাইভেট কার পেছন থেকে তাঁর বাবার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তাঁর হাতে-পায়ে এবং বুকের বাঁ পাশে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তিনি চিকিৎসাও নিয়েছিলেন।
ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল জানান, বুধবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ মোহাম্মদপুরের বাসভবনের সামনে নেওয়া হবে। সেখানে স্থানীয় মসজিদে আরেক দফা জানাজা শেষে তাঁকে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ-সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হবে।
আবু হেনা রাসেল ২০০০ সালের দিকে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে কিছু সময় কানাডায় বসবাসের পর ২০১৬ সালে দেশে ফিরে আবারও সাংবাদিকতায় যুক্ত হন।
তাঁর মৃত্যুতে ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল, সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহসহ সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটি গভীর শোক প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ক্র্যাবের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর নির্ধারিত অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।
মতামত দিন