দুই গোলে এগিয়ে থেকে ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে সেনেগাল, বিধ্বস্ত বেলজিয়াম
বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে বেলজিয়ামকে একরকম বিধ্বস্ত করে দিয়েছে সেনেগাল। সিয়াটল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হওয়া এই ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলেছে আফ্রিকান দলটি, যা রীতিমতো নাড়িয়ে দিয়েছে ফেভারিট বেলজিয়ামের শিবিরকে।
প্রথমার্ধের ২৫তম মিনিটে হাবিব দিয়ারার গোলে এগিয়ে যাওয়া সেনেগাল বিরতির পর মাঠে নেমেই আরও একবার উল্লাসে মাতে। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন ইসমাইলা সার, যিনি প্রথমার্ধেও পোস্টে লেগে ফেরা একটি শট নিয়ে গোলবঞ্চিত হয়েছিলেন। এবার আর ভুল করেননি তিনি, তাঁর গোলেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সেনেগাল।
দ্বিতীয় গোল হজম করার পর মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। বল দখলের হিসাবে প্রথমার্ধের ৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে সমতায় (৫০-৫০) ফিরলেও, আক্রমণের ধারালো ভাবের দিক থেকে এখনো স্পষ্টভাবে পিছিয়ে তারা। পুরো ম্যাচে সেনেগাল এখন পর্যন্ত নিয়েছে ১১টি শট, যার ৪টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে বেলজিয়াম নিয়েছে ৬টি শট, লক্ষ্যে ছিল ২টি। বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে এই সময়ের মধ্যে ২টি সেভও করতে হয়েছে, যা বলে দেয় সেনেগালের আক্রমণভাগ কতটা সক্রিয় ছিল।
খেলায় উত্তাপ ছড়িয়েছে ফাউলের সংখ্যাতেও—বেলজিয়াম ৭টি ও সেনেগাল ৮টি ফাউল করেছে এখন পর্যন্ত। গোল হজমের পরপরই কৌশলে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া, বিরতির সময় একজন এবং ৫৬ মিনিটে আরও দুজন খেলোয়াড় বদল করে দলে গতি আনার চেষ্টা করেন তিনি।
গ্রুপ পর্বে ধুঁকতে ধুঁকতে তৃতীয় স্থান অধিকারী দল হিসেবে নকআউটে জায়গা করে নেওয়া সেনেগাল যেন পুরোপুরি বদলে যাওয়া এক দল হয়ে হাজির হয়েছে নকআউট পর্বে। উল্টো দিকে গ্রুপ পর্বে চমক দেখিয়ে শীর্ষে থেকে আসা বেলজিয়াম নিজেদের ছন্দ খুঁজে পেতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। দুই দলের ফুটবল ইতিহাসে এটিই প্রথম সাক্ষাৎ, আর সেই সাক্ষাতেই ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে সেনেগাল—জিতলে দেশটির ইতিহাসে এটিই হবে প্রথম বিশ্বকাপ নকআউট জয়।
বাকি সময়ে বেলজিয়াম ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা, নাকি সেনেগালের ঐতিহাসিক জয়ের সাক্ষী হবে সিয়াটল—সেদিকেই এখন সবার নজর।
মতামত দিন