নাট্যকার সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী আজ, নানা আয়োজনে স্মরণ
বাংলা নাটকের আধুনিক পর্বের অন্যতম শক্তিমান নাট্যকার সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। নাট্যচর্চায় দেশীয় ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি ও বাংলার নিজস্ব জীবনবোধকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরে তিনি নাট্যজগতে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিভিন্ন নাট্য সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সেলিম আল দীন। তাঁর বাবা মফিজ উদ্দিন আহমেদ ছিলেন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব কাস্টমস এবং মা ফিরোজা খাতুন। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। পরে ১৯৮৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগ দেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণা ও নাট্যতত্ত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন সেলিম আল দীন। ১৯৯৫ সালে ‘মধ্যযুগের বাংলা নাট্য’ বিষয়ে গবেষণার জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। নাট্যকারের পাশাপাশি তিনি ছিলেন গবেষক, নাট্যনির্দেশক, সংগঠক ও শিল্পতাত্ত্বিক। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দেশের নাট্যচর্চাকে এগিয়ে নিতে তিনি অন্যদের সঙ্গে ঢাকা থিয়েটার ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বাংলা নাটকে সেলিম আল দীনের অবদান বিশেষভাবে আলোচিত তাঁর স্বতন্ত্র নাট্যভাষা ও দেশীয় আঙ্গিকের ব্যবহারের কারণে। ‘কেরামতমঙ্গল’, ‘প্রাচ্য’, ‘কিত্তনখোলা’, ‘হাতহদাই’, ‘যৈবতী কন্যার মন’, ‘চাকা’, ‘হরগজ’, ‘একটি মারমা রূপকথা’, ‘বনপাংশুল’, ‘নিমজ্জন’ ও ‘ধাবমান’সহ তাঁর বহু নাটক দেশের মঞ্চনাটকে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়। নাটকের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য, প্রবন্ধসহ সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও কাজ করেছেন।
সাহিত্য ও নাট্যচর্চায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, নান্দীকার পুরস্কার, খালেকদাদ সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ও অলক্ত সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় মারা যান এই নাট্যব্যক্তিত্ব। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ঢাকা থিয়েটার ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের আয়োজনে তিন দিনের নাট্যোৎসব। রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘সেলিম আল দীন সংগ্রহশালা’র উদ্যোগে বক্তৃতা ও নাট্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার সেখানে ‘আলাপে সেলিম আল দীন ও নাটকের রাজনীতি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আজফার হোসেন। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ তাঁর ‘ধাবমান’ নাটক মঞ্চস্থ করে। এ ছাড়া স্বপ্নদল আয়োজন করছে তিন দিনের নাট্যোৎসব এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ পালন করছে দিনব্যাপী কর্মসূচি।
মতামত দিন