Views Bangladesh Logo

সিলেটে মাজার কেন্দ্রীক নিরাপত্তা জোরদার

সিলেটে মাজার কেন্দ্রীক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মাজার পন্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পৃথক দুটি মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ভাঙচুরের ঘটনাকে কেউ কেউ ইতিবাচকভাবে নিলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি নির্দেশে দেশের সকল মাজারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সিলেটেও জোরদার করা হয় মাজার কেন্দ্রীক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একইসঙ্গে মাজারের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ প্রদান করে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের সংস্থা-২ শাখা থেকে জারি করা চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

সিলেটে মাজার ভাঙচুরের সর্বশেষ ঘটনা ঘটে শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে। ওইদিন শাহ পরাণ থানাধীন সিলেট শহরতলির খাদিমপাড়া ইউনিয়নের বটেশ্বর চুয়ারবহর এলাকায় শাহ সুফি আব্দুল কাইউম চিশতিয়ার মাজারটি ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, ফজরের নামাজের পর একদল লোক মাজার, মাজারের দেয়াল ও কয়েকটি পাকা কবর হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেয়। এ সময় মাজারের প্রবেশমুখে মৌলানা শাহ সুফি আব্দুল কাইউম চিশতিয়া জালালাবাদী (রহ.) মাজার শরিফ লেখা সাইনবোর্ডও ভেঙে ফেলা হয়। কবরের উপরে টাঙানো গিলাফও ছিঁড়ে ফেলে হামলাকারীরা। ভাঙচুরকারীরা মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারে করে এসেছিলেন।

৮ সেপ্টেম্বর শাহ পরাণ (রাহ.) মাজারে বার্ষিক ওরসকালীন হামলা হয়। ওইদিন গভীর রাতে মাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার খবর পেয়ে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর এলাকার শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে মসজিদে আশ্রয় নেওয়া আলেম সমাজকে উদ্ধার করেন এবং ওরসপন্থীদের উপর চড়াও হয়ে তাদের তাবুগুলো ভেঙে দেন। এসময় দু’পক্ষের মাঝে সংঘর্ষে ৩০-৩৫ জন আহত হন। গুরুতর আহত হন অন্তত ৫ জন। পরে ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি টিম এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

সংঘর্ষের পর শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন-অর-রশীদ চৌধুরী বলেন, মাজারের ওরসে আসা কিছু পাগল, ফকির ও আলেম-সমাজের প্রতিনিধি দলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। দুপক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় কিছু ভাঙচুর হয়েছে। তবে এখানে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ মাজারে হামলা করতে আসেনি। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো চিহ্নিত করা যায়নি। তবে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ। এ সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

এর আগে মাজারগুলোতে অসামাজিক কার্যক্রম চলছে- এমন অভিযোগে আলেম সমাজের একটি অংশ মাজারে গান-বাজনা বন্ধের দাবি জানান। আলেম সামাজের দাবি এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবেলায় সিলেটের বৃহৎ দুটি মাজার- হযরত শাহজালাল ও শাহ পরাণ রাহ.-এর মাজার এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও মাজারে নজরদারি করছে পুলিশ। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে বাহিনীটি। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের থানাগুলোকে সতর্কবার্তা প্রদানের পর এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ জানান, মন্ত্রণালয়ের চিঠি এখনো হাতে পাইনি, পাওয়া মাত্র নির্দেশনা অনুযায়ী সব পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ