বাংলাদেশ বিমানে ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ প্রদর্শন বন্ধ, যা জানা গেল
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে প্রদর্শিত হয়ে আসছিল তানভীর মোকাম্মেলের ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’। সম্প্রতি সিনেমা দুটি আর প্রদর্শন না করার সিদ্ধান্তের কথা সংশ্লিষ্ট পরিবেশক প্রতিষ্ঠানকে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়মিত কনটেন্ট পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই সিনেমা দুটি আপাতত সরানো হয়েছে।
‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’—দুটি সিনেমাই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে একাধিক বিভাগে পুরস্কৃত। তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত ‘লালসালু’ মুক্তি পায় ২০০১ সালে। এতে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, আলী যাকের, তৌকীর আহমেদ, মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী, আমিরুল হক চৌধুরী, চিত্রলেখা গুহ, রওশন জামিল ও মুনিরা ইউসুফ মেমীসহ অনেকে।
অন্যদিকে ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘চিত্রা নদীর পারে’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন মমতাজউদ্দীন আহমেদ, আফসানা মিমি, তৌকীর আহমেদ, রওশন জামিল ও সুমিতা দেবীসহ অনেকে।
বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে চলচ্চিত্র সরবরাহের কাজ করছে ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী কাজী রিটন জানান, তানভীর মোকাম্মেলের বেশ কয়েকটি সিনেমা তাঁদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিমানে প্রদর্শিত হয়ে আসছে। তবে প্রায় দুই মাস আগে তাঁদের জানানো হয়, ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ আর প্রদর্শন করা হবে না।
মঙ্গলবার বিকেলে কাজী রিটন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের জানানো হয়েছে, ছবি দুটি দশ বছরের বেশি সময় দেখানো হয়েছে। তাই আপাতত না দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে আবার দেখানো হবে।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট বা বিমানের অভ্যন্তরীণ বিনোদনব্যবস্থার কনটেন্ট নিয়মিত পরিবর্তন করা হয়। সাধারণত ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সিনেমা, টিভি শো ও অডিওর তালিকা পরিবর্তন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ লিখিত বক্তব্যে জানান, লাইসেন্স চুক্তি, স্টোরেজের সীমাবদ্ধতা এবং যাত্রীদের সন্তুষ্টির কারণে কনটেন্ট তালিকা পরিবর্তন করতে হয়।
তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস প্রদর্শিত সিনেমা বা শোগুলোর মালিক নয়। মিডিয়া ব্রোকারদের কাছ থেকে কনটেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রদর্শনের স্বত্ব নিয়ে এসব কনটেন্ট দেখানো হয়। লাইসেন্সিং চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে হয়।
এ ছাড়া বিমানের অভ্যন্তরীণ সার্ভারে স্টোরেজের সীমাবদ্ধতা থাকায় নতুন কনটেন্ট যুক্ত করতে পুরোনো কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন হয়। যাত্রীদের জন্য বিনোদন তালিকা হালনাগাদ রাখাও নিয়মিত পরিবর্তনের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মতামত দিন