রাজশাহীতে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবনে নাভিশ্বাস
উত্তরের জনপদ রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে গত কয়েক দিন ধরে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ। প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের জনজীবন। গতকাল বুধবার মোহনপুর উপজেলায় হিট স্ট্রোকে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত কয়েক দিন ধরে রাজশাহীতে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় গরম আরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে। দিনের বেলায় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি একেবারেই কম। জরুরি প্রয়োজনে যারা ঘর থেকে বের হচ্ছেন, তাঁদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
এই বৈরী আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। রিকশাচালক, দিনমজুর ও নির্মাণশ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ জীবিকার তাগিদে তীব্র রোদ উপেক্ষা করেই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কাজ শেষে ক্লান্ত শরীরে অনেককে রাস্তার পাশে ছায়ায় বিশ্রাম নিতে এবং আখের রসের দোকানে ভিড় করতে দেখা গেছে।
চারঘাট উপজেলা থেকে শহরে রিকশা চালাতে আসা ৬০ বছর বয়সী আব্দুল রশিদ বলেন, 'সকাল আটটায় শহরে এসেছি, কিন্তু গরমের কারণে তেমন ভাড়া মারতে পারিনি। একদিকে রোদের তীব্র তাপ, অন্যদিকে যাত্রী কম—রোজগারও হয়নি।'
তীব্র গরমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। নগরীর শিরোইল কলোনির বাসিন্দা মোস্তাক হোসেন বলেন, '৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় জীবন অতিষ্ঠ, তার ওপর চলছে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি। এই জ্বালা থেকে দ্রুত মুক্তি চাই।'
তাপদাহ ও লোডশেডিংয়ের দ্বৈত সংকটে রাজশাহী অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকরা প্রয়োজন ছাড়া রোদে না বেরোনো এবং বেশি করে তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে