Views Bangladesh Logo

বিতর্কিত মামলায় স্কুল শিক্ষার্থীরা কারাগারে, অনেকে জামিনও পাচ্ছে না

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে স্কুলশিক্ষার্থী গ্রেপ্তার এবং মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে না পারার কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মতো বিতর্কিত আইনের বিভিন্ন ধারায় আটক এসব কিশোরদের অনেকে জামিনও পাচ্ছে না।

ষোল বছরের কিশোর কাওসার হোসেন (ছদ্মনাম) গত বছর অক্টোবরে গ্রেপ্তার হন। তার বাবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হওয়ায় বাবা-ছেলে দুজনই পলাতক ছিলেন। টেস্ট পরীক্ষা দিতে নানুবাড়িতে ফিরলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। চার মাসেরও বেশি সময় পর এসএসসি পরীক্ষার মাত্র একদিন আগে তিনি ছাড়া পান। তবে টেস্ট পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকায় ফরম পূরণ করতে না পেরে এসএসসিতে বসতে পারেননি তিনি।

একইভাবে নাইম হাসান (ছদ্মনাম) ছাত্রলীগের একটি ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার ছবি দেখে পুলিশ তাকে শনাক্ত করে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় গ্রেপ্তারের পর চব্বিশ দিন কারাগারে থেকে জামিন পেলেও ততদিনে টেস্ট পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়। ফলে এসএসসিতেও বসা হয়নি তার। তিনি এখন নতুন করে দশম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছেন।

গাজীপুরের টঙ্গিতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৫ মে পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধীসহ চারটি আইনে গ্রেপ্তার হয়ে কেন্দ্রটিতে আনা হয়েছে ১২৮ জন কিশোরকে। এর মধ্যে শুধু মে মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই আটক হয়েছে ৫৭ জন।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ওমর ফারুক বলেন, আইন অনুযায়ী শিশুদের জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হলেও জামিন দেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু তার ব্যত্যয় ঘটছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের কোষাধ্যক্ষ ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির বলেন, বিতর্কিত আইনে ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার না করে শুরুতে পরিবারকে সতর্ক করা উচিত। গ্রেপ্তার হলেও জামিনে যেন বিলম্ব না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

এসব বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিবিসি বাংলা

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ