মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস মোবারক
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হোসেনকে খালাস দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
মোবারকের আপিল মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বুধবার (৩০ জুলাই) এ রায় দেন। একই সঙ্গে মোবারককে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া দণ্ডাদেশের রায় বাতিল করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে আপিল করেন মোবারক। ৮ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত শুনানি শুনানি শেষে রায়ের দিন ৩০ জুলাই ধার্য করেন সর্বোচ্চ আদালত।
মোবারকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও ইমরান এ সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বরের রায়ে মোবারককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে বলা হয়, আখাউড়ায় রাজাকার বাহিনীর সদস্য মোবারক সরাসরি গণহত্যা ও নির্যাতনে জড়িত ছিলেন। রায়ে তার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে দুটি প্রমাণিত হলে একটিতে মৃত্যুদণ্ড ও আরেকটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল।
তবে আপিল বিভাগ দীর্ঘ শুনানির পর রায় দেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পর্যাপ্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে তাকে খালাস দেয়া হয়।
মোবারকের আইনজীবী এস এম শাহজাহান জানান, মোবারককে ১ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ও ৩ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। দুই অভিযোগ থেকেই তাকে খালাস ও ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল করা হয়েছে। অন্য কোনো মামলা না থাকলে তার কারামুক্তিতে বাধা নেই।
মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট ছিলেন মোবারক। স্বাধীনতার পর তিনি দলটির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন পর্যায়ের রুকন হন। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে একই ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে