বাজারে সীমিত স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড ফোন
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে উন্মোচিত হওয়া স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড স্মার্টফোনটি এখন পর্যন্ত তৈরি হওয়া সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ফোল্ডেবল ডিভাইসগুলোর একটি। ট্রিপল-ফোল্ড বা তিন ভাঁজের ডিজাইনের এই ফোনটি খুললে প্রায় ১০ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লেতে রূপ নেয়। এতে রয়েছে শক্তিশালী Snapdragon 8 Elite প্রসেসর এবং ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা।
প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দেখালেও ডিভাইসটি গণবাজারের জন্য নয় বলে শুরু থেকেই জানিয়েছিল স্যামসাং। ফলে উন্মোচনের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এর বাণিজ্যিক যাত্রা সীমিত হয়ে এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ইতোমধ্যে বিক্রি বন্ধ হয়েছে এবং অন্যান্য দেশেও ধীরে ধীরে স্টক শেষ করে বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ডিভাইসটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর ডুয়াল-হিঞ্জ প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে ফোনটি দুইবার ভাঁজ করা যায়। এতে ব্যবহারকারী চাইলে এটিকে সাধারণ স্মার্টফোনের মতো বহন করতে পারেন, আবার প্রয়োজন অনুযায়ী বড় ডিসপ্লেতে রূপান্তর করে কাজ বা বিনোদন উপভোগ করতে পারেন।
ডিজাইনের দিক থেকে এটি অত্যন্ত পাতলা—খোলা অবস্থায় মাত্র ৩.৯ মিলিমিটার। টাইটানিয়াম হিঞ্জ এবং উন্নত অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম ব্যবহারের ফলে এর স্থায়িত্ব বাড়ানো হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য শক্তিশালী উপকরণও সংযোজন করা হয়েছে।
পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে ফোনটিতে রয়েছে সর্বোচ্চ ১৬ জিবি র্যাম ও ১ টেরাবাইট স্টোরেজ, সঙ্গে ৫,৬০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি এবং ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সুবিধা। ক্যামেরা বিভাগে ২০০ মেগাপিক্সেল প্রধান সেন্সরের পাশাপাশি আল্ট্রা-ওয়াইড ও টেলিফটো লেন্স রয়েছে, যা সর্বোচ্চ ৩০ গুণ জুম সাপোর্ট করে।
ডিসপ্লে অভিজ্ঞতাও বেশ উন্নত। এতে রয়েছে ১০ ইঞ্চির QXGA+ Dynamic AMOLED 2X স্ক্রিন, ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট এবং উজ্জ্বলতা বেশি হওয়ায় বিভিন্ন আলোর পরিবেশেও পরিষ্কার দেখা যায়। স্ক্রিনে ভাঁজের দাগও তুলনামূলক কম।
এআই সুবিধার দিক থেকেও ডিভাইসটি এগিয়ে। Samsung DeX-এর মাধ্যমে ডেস্কটপের মতো কাজ করা যায়, একাধিক অ্যাপ একসঙ্গে চালানো সম্ভব, আর Galaxy AI ও Gemini Live ব্যবহার করে ভয়েস ও ক্যামেরার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সহায়তাও পাওয়া যায়।
বিনোদনের ক্ষেত্রেও বড় স্ক্রিনটি বাড়তি সুবিধা দেয়। সিনেমা দেখা, গেম খেলা কিংবা একসঙ্গে ভিডিও দেখা ও কমেন্ট ব্রাউজ করার মতো কাজ সহজেই করা যায়।
বাংলাদেশে এখনো ফোনটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন হয়নি। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত স্যামসাংয়ের অনুমোদিত কোনো বিক্রয় চ্যানেলে এটি পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিশ্বব্যাপী বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে ভবিষ্যতেও আনুষ্ঠানিকভাবে আসার সম্ভাবনা কম।
তবে কিছু অনানুষ্ঠানিক বিক্রেতা ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে আমদানি করা ইউনিট পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে ১৬ জিবি র্যাম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টের দাম প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যদিও বিক্রেতা ভেদে দামে তারতম্য হতে পারে।
আনুষ্ঠানিকভাবে না এলেও দেশের ক্রেতারা স্থানীয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা আমদানিনির্ভর মোবাইল বিক্রেতাদের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে এই ডিভাইসটি কিনতে পারছেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে