ডনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল সামিরা-আজিজের: রাষ্ট্রপক্ষ
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরও ঘটনাটি ঘিরে রহস্যের অবসান হয়নি। সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার এজাহারভুক্ত চার নম্বর আসামি চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে আদালতে হাজিরের পর চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য তুলে ধরেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
রোববার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে তাঁকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে সিআইডি। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মৃত্যু হয়।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী দাবি করেন, সালমান শাহর স্ত্রী সামিরার সঙ্গে শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের গোপন সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের জের ধরে সালমান শাহকে হত্যার জন্য আশরাফুল হক ডনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল বলে দাবি রাষ্ট্রপক্ষের।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, এ বিষয়ে রাজসাক্ষী রিজভী আহমেদের দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তথ্য রয়েছে। তাঁর জবানবন্দি অনুযায়ী, সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে ডনের সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে।
তবে অভিযোগ শুধু হত্যার পরিকল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগের জন্য সালমান শাহর ভাই বিল্টুকে অপহরণের পরিকল্পনার অভিযোগও রয়েছে আশরাফুল হক ডন ও ডেভিডের বিরুদ্ধে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় ১৯৯৭ সালের ১৯ জুলাই রিজভী আহমেদ গ্রেপ্তার হন। পরে একই বছরের ২৪ জুলাই সালমান শাহ হত্যা মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা দাবি ও পাল্টা দাবি রয়েছে। নতুন করে ডনের গ্রেপ্তার এবং রাষ্ট্রপক্ষের এসব বক্তব্যের পর মামলাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে সামিরা, আজিজ মোহাম্মদ ভাই বা ডনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।
মতামত দিন