সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ১২৫ বারেও দাখিল হয়নি
আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এবারও আদালতে জমা দিতে পারেনি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর ফলে বহুল আলোচিত এ মামলার প্রতিবেদন দাখিল ১২৫তম বার পিছিয়ে গেল।
বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হন। পরে আদালত আগামী ৭ মে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর নিজ বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
প্রথমে মামলাটি থানা পুলিশ তদন্ত করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও অগ্রগতি না হওয়ায় ওই বছরই উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট মামলাটির তদন্তে অগ্রগতি আনতে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন এবং ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেন। একই সঙ্গে র্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ চার সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন পিবিআই প্রধান। বর্তমানে সেই টাস্কফোর্সই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম (ওরফে অরুন), আবু সাঈদ, নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল, এনায়েত আহমেদ এবং তাদের সহযোগী তানভীর রহমান খান। তাদের মধ্যে তানভীর জামিনে রয়েছেন এবং পলাশ রুদ্র পাল জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক। বাকি আসামিরা কারাগারে আছেন।
দীর্ঘ সময়েও তদন্ত শেষ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে