Views Bangladesh Logo

ক্রীড়াঙ্গনে মেয়েদের এগিয়ে নিতে দরকার গোঁড়ামিমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ: মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী

ক্রীড়াঙ্গনে মেয়েদের এগিয়ে নিতে শুধু প্রতিযোগিতার আয়োজন করলেই হবে না। তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম এবং পরিবারের আস্থা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।

বুধবার (১২ আগস্ট) রংপুরের ক্রীড়াঙ্গন পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। সফরকালে তিনি রংপুর বিভাগীয় মহিলা কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে নারী ক্রীড়ার উন্নয়ন ও বিকাশে চলমান কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন। পরিদর্শন শেষে রংপুর জেলা সার্কিট হাউজে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। সভায় রংপুর অঞ্চলে নারী ক্রীড়ার বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা, খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া অবকাঠামো, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।




সভায় বক্তারা বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতা, রক্ষণশীলতা, নিরাপত্তার অভাব, বাল্যবিবাহ এবং প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জামের সংকটের কারণে মফস্বল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মেয়ে খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে তাদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

তারা আরও বলেন, মেয়েরা ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে নিলে পরিবারকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আয় ও সম্মানজনক ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে, এই আস্থা পরিবার ও সমাজের মধ্যে তৈরি করা জরুরি।

এ লক্ষ্যে আসন্ন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় পর্ব, চলমান প্রধানমন্ত্রীর কাপসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান নারী খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, মেয়েদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বাড়াতে সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে হবে। একজন মেয়ে যেন খেলাধুলাকে শুধু বিনোদন হিসেবে নয়, ভবিষ্যৎ পেশা ও ক্যারিয়ার হিসেবেও বেছে নিতে পারে, সেই সুযোগ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান মেয়েদের খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অন্যতম লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে সংস্থার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রমিজ আলম, অবসরপ্রাপ্ত খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক, কোচ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শরীরচর্চা শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদিকা শারমিন আক্তার রত্নাসহ অ্যাডহক কমিটির সদস্যরাও সভায় অংশ নেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ