ঢাকায় রাশিয়ার বিজয়ের ৮১তম বার্ষিকী উদযাপন
ঢাকাস্থ রাশিয়ান দূতাবাস শুক্রবার (৮ মে) নানা স্মরণানুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয় দিবসের ৮১তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে বিজয়ে অবদান রাখা ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এ আয়োজন করা হয়।
রাশিয়ার ‘গ্রেট প্যাট্রিয়টিক ওয়ার’ স্মরণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রাশিয়ান কমিউনিটির সদস্য এবং সাবেক সোভিয়েত ও রাশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। দূতাবাস স্কুলের শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে, যা উৎসর্গ করা হয় যুদ্ধকালীন প্রজন্মকে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই আয়োজনের প্রস্তুতি কয়েক মাস ধরে চলেছে।
উদযাপনের অংশ হিসেবে দূতাবাসে ‘ক্যান্ডেল অব মেমোরি’ ও ‘গার্ডেন অব মেমোরি’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যা এখন বার্ষিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
যুদ্ধের প্রবীণ যোদ্ধা ও পারিবারিক ইতিহাসকে স্মরণ করতে দূতাবাসের কর্মকর্তা ও তাদের স্বজনরা ‘ইমমর্টাল রেজিমেন্ট’ প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ছবি ও স্মৃতিচারণ তুলে ধরা হয়। বিজয় দিবসের আয়োজন দূতাবাসের বাইরেও বিস্তৃত হয়। রাজধানীর গুলশান এলাকায় মোটরসাইকেল ও গাড়ি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এতে রাশিয়ান দূতাবাস ও রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রবাসী রাশিয়ান নাগরিক এবং সাবেক সোভিয়েত ও রাশিয়ান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন, রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনয়, রদিনা কমপ্যাট্রিয়টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এলেনা বাস, সোভিয়েত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নেতা মিজানুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আবুল আজাদ।
আয়োজকরা জানান, এই বার্ষিক র্যালি ঢাকায় একটি অনন্য ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে, যা রাশিয়ার ইতিহাস ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীরদের স্মরণে আগ্রহী মানুষদের একত্র করে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে