Views Bangladesh Logo

সংসারের হাল ধরতে ‘মব ভিকটিম’ রূপলালের ছেলে বাবার পেশায়

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

রংপুরের তারাগঞ্জে মব সৃষ্টি করে গণপিটুনিতে নিহত রূপলাল দাসের পরিবার অসহায় জীবনযাপন করছে। ঘটনার মাত্র ২০ দিন পর নিহতের নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে জয় দাস (১৪) বাবার দোকানে বসে জুতা সেলাইয়ের কাজ শুরু করেছে। পড়াশোনা বাদ দিয়ে শিশু বয়সেই তাকে ধরতে হয়েছে সংসারের হাল।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) তারাগঞ্জ জুতাপট্টির জলচৌকিতে বসে জয় দাস বলেন, বাবার পেশাকেই নিতে হলো নিজের পেশা হিসেবে। বাড়িতে দাদি, মা আর দুই বোন আছে। তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব এখন আমার ওপর। বাবাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মেরে ফেলায় আমরা এতিম হয়ে গেছি। ইচ্ছে ছিল পড়াশোনা করব; কিন্তু অভাবের সংসারে তা আর হলো না। বিনা দোষে যারা আমাদের এতিম করেছে আমি তাদের বিচার চাই।

পার্শ্ববর্তী দোকানদার সেতু মিয়া বলেন, রূপলাল দাস নিরীহ মানুষ ছিলেন। দীর্ঘদিন বাজারে মুচির কাজ করেছেন, কখনও কারও সঙ্গে ঝগড়ায় জড়াননি। কতিপয় দুর্বৃত্ত নিরীহ এই মানুষটাকে পিটিয়ে হত্যা করে তার পরিবারকে পথে বসাল। এখন স্কুল ছেড়ে জয় জুতা সেলাই করছে—দেখে কষ্ট লাগে।

স্থানীয়রা জানান, তারাগঞ্জ বাজারে জুতা সেলাই করে স্ত্রী, মা ও তিন সন্তান নিয়ে সংসার চালাতেন রূপলাল দাস। বড় মেয়ে নুপুর দাসের বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ জন্য মিঠাপুকুরের খামার মকিমপুর গ্রাম থেকে ভাতিজি জামাই প্রদীপ লালকে ডেকে আনেন। প্রতিবন্ধী প্রদীপ ভ্যান চালিয়ে গত ৯ আগস্ট রাতে রূপলালের সঙ্গে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন।

পথিমধ্যে তারাগঞ্জ-কাজীরহাট সড়কের বটতলা এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন তাদের ভ্যানচোর সন্দেহে আটকায়। দ্রুত লোক জমে গিয়ে শুরু হয় মারধর। অচেতন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে পুলিশ দুজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক রূপলালকে মৃত ঘোষণা করেন। ভোররাতে রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান প্রদীপ লালও।

এ ঘটনায় রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী ১০ আগস্ট তারাগঞ্জ থানায় ৭০০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

তারাগঞ্জ থানার ওসি এম এ ফারুক জানান, ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ