৬২ বছর পর শিল্পকলার মঞ্চে রুনা লায়লা, কণ্ঠের জাদুতে ছড়ালেন মুগ্ধতা
ছয় দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে গান গেয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় আয়োজিত বিশেষ একক সংগীতানুষ্ঠানে নিজের কালজয়ী গান পরিবেশনের পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে সম্মাননাও গ্রহণ করেন তিনি।
‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাবো’ শিরোনামে আয়োজিত এই একক সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে। ৭৪ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি শিল্পী অনুষ্ঠানে তার জনপ্রিয় ও কালজয়ী ১০টি গান পরিবেশন করেন। তার প্রতিটি পরিবেশনার পর দর্শকদের দীর্ঘ করতালি মিলনায়তনজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
শিল্পকলা একাডেমির ৫৪ বছরের ইতিহাসে এটিই রুনা লায়লার প্রথম একক সংগীতানুষ্ঠান। তবে শিল্পীর ভাষ্য অনুযায়ী, শিল্পকলার মঞ্চে তিনি প্রায় ৬২ বছর পর গান গাইলেন। দীর্ঘ এই বিরতির পরও কণ্ঠের আবেদন ও পরিবেশনায় ছিল আগের সেই সাবলীলতা, যা মুগ্ধ করেছে উপস্থিত শ্রোতাদের। দেশাত্মবোধক গান দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন রুনা লায়লা। এরপর একে একে তার বহুল জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস, করতালি এবং ভালোবাসায় সিক্ত হন এই গুণী শিল্পী। অনেক দর্শকই মন্তব্য করেন, "রুনা লায়লার তুলনা রুনা লায়লাই।"
বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এই আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ ফাতেমা। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন নাট্যব্যক্তিত্ব আফজাল হোসেন। মিলনায়তনের ভেতর ও বাইরে দর্শক-শ্রোতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিটি গানের শেষে মুহুর্মুহু করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য বাংলা, হিন্দি, উর্দুসহ বিভিন্ন ভাষার গান উপহার দিয়েছেন। সংগীতকে মানবিকতা, দেশপ্রেম ও নান্দনিকতার এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি দেশে-বিদেশে অসংখ্য সম্মাননা ও স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
মতামত দিন