আমাকে গালাগালি করা হয়েছে, এটা সংসদীয় রীতির মধ্যে পড়ে না: রুমিন ফারহানা
জাতীয় সংসদে নিজের বক্তব্য দেওয়ার সময় কয়েকজন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে অকথ্য ভাষায় গালাগালির অভিযোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, এ ধরনের আচরণ সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না এবং এতে সংসদে ভিন্নমত প্রকাশের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬-এর ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, আগের দিন সংসদে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, তাতে সেখানে কোনো ভিন্নমত রেকর্ড করা সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না।
বক্তব্যের পর আশপাশের কয়েকজন সংসদ সদস্য তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, কারও বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে বক্তব্য শেষ হওয়ার পর দাঁড়িয়ে পাল্টা বক্তব্য দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু বক্তব্য চলাকালে বা বক্তব্য শেষ করার পর গালাগালি করা কোনো সংসদীয় রীতির মধ্যে পড়ে না।
সংসদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একটি সংসদে সরকারি দল, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য থাকবেন এবং প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন মত থাকতে পারে। সেই মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রত্যেক সংসদ সদস্যের থাকা উচিত।
নিজের আগের সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, ২০১৮ সালের সংসদেও আমি একা দাঁড়িয়ে বিএনপির পক্ষে কথা বলার সময় একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম। জনগণের প্রাণের বিনিময়ে ভোটের মাধ্যমে নতুন সংসদ প্রতিষ্ঠার পরও যদি ন্যূনতম পরিবর্তন না আসে, তাহলে বিরোধী দল হিসেবে শুধু ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য সংসদে থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।
পরে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন রুমিন ফারহানা। র্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও নতুন বাহিনীটি যেন শুধু নাম ও পোশাক পরিবর্তনের মাধ্যমে র্যাবের নতুন রূপে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি, নির্যাতন ও ভীত হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো নতুন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ক্ষেত্রেও যেন এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি পুলিশ, র্যাবসহ সব রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত রেখে আইন, নিয়ম ও শৃঙ্খলার মধ্যে পরিচালনার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যের পর স্পিকারও সংসদে বাকস্বাধীনতা ও পরস্পরের বক্তব্যে বাধা না দেওয়ার বিষয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা বক্তব্য দেওয়ার সময় অন্য পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই এসআরবি বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটিতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
মতামত দিন