রাবিতে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের ছবিসংবলিত বিলবোর্ড, ছয় ঘণ্টা বিক্ষোভের পর অপসারণ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্যারিস রোডে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামে স্থাপিত একটি বিলবোর্ডকে ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত কয়েকজনের ছবি প্রদর্শনের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার বিক্ষোভের পর বিলবোর্ডটি সরিয়ে নতুন সংস্করণ স্থাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে দেখা যায়, আগের বিলবোর্ডটি অপসারণ করে সেখানে নতুন একটি বিলবোর্ড বসানো হয়েছে। নতুন সংস্করণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি বাদ দিয়ে অন্য দুটি ছবি সংযোজন করা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংগঠন ‘নভো-কালচার’ বিলবোর্ডটি স্থাপন করে। সংগঠনটির পরিচালক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার। ফলে বিতর্কের সূত্রপাত হয়, কারণ বিলবোর্ডে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত কয়েকজনের ছবি স্থান পায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানায়। তাদের অভিযোগ, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার আড়ালে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় তাৎক্ষণিক সমাধান না হওয়ায় তারা প্রায় ছয় ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং বিলবোর্ড অপসারণের দাবি জানান।
পরে রাতে প্রক্টর কার্যালয়ে বৈঠকে অংশ নেন সালাউদ্দিন আম্মার। বৈঠক শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তার আচরণ নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, বের হওয়ার সময় তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জানান, বিলবোর্ড অপসারণে সংশ্লিষ্টরা সম্মত না হওয়ায় প্রশাসন নিজ উদ্যোগে এটি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, বিতর্কিত এই উদ্যোগের সঙ্গে রাকসুর কোনো সাংগঠনিক বা আর্থিক সম্পৃক্ততা নেই।
অন্যদিকে সালাউদ্দিন আম্মার দাবি করেন, বিলবোর্ডটির উদ্দেশ্য ছিল বিচারিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা। তার ভাষ্য, অতীতের বিভিন্ন বিচার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ছিল কি না, সেই বিতর্ক তুলে ধরাই ছিল মূল লক্ষ্য; কাউকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় থেকে মুক্তি দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না।
তবে এ ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র অধিকার পরিষদ এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাবি শাখা পৃথক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। তারা এ ঘটনাকে সংবেদনশীল জাতীয় ইস্যুতে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম জানিয়েছিলেন, বিলবোর্ড স্থাপনের বিষয়টি আগে প্রশাসনের অনুমোদনের আওতায় ছিল না এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মতামত দিন