রাকসু ভিপির বিরুদ্ধে রাবি সাংবাদিকদের বয়কটের ডাক, ক্ষমা না চাইলে কঠোর কর্মসূচি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি সাংবাদিক সংগঠন রাকসুর সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিপি নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় রাকসু কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সভাপতিও হওয়া মোস্তাকুর রহমান জাহিদ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রতি সহানুভূতি দেখানো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডাকা এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের ট্যাগিং ও হুমকিমূলক বক্তব্যও দেন বলে অভিযোগ।
বুধবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি (রুরু) যৌথ এক প্রতিবাদলিপিতে জানায়, ভিপির এই বক্তব্যে সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। সংগঠনগুলোর নেতাদের ভাষ্য, কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রতিবাদলিপি বা আইনি প্রতিকারের পথ খোলা আছে, কিন্তু নির্বাচিত একজন ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। তারা আরও বলেন, কোনো সংগঠন নিষিদ্ধ হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর, ছাত্র সংসদ বা তার প্রতিনিধির নয়।
এই অবস্থান থেকে ভিপি প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তিন সংগঠনের সদস্যরা রাকসুর যেকোনো কর্মকাণ্ডের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ থেকে বিরত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। ক্ষমা প্রার্থনা না হলে সারা দেশের সাংবাদিকদের নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
একই ঘটনায় পৃথক বিবৃতিতে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনও (আরটিজেএ)। সংগঠনটির ভাষ্য, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরাই সাংবাদিকদের মৌলিক দায়িত্ব, আর কোনো সংবাদ সত্য ও তথ্যনির্ভর হলে তা কারও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করলেও তা সাংবাদিকতারই অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেবেন বলেও প্রত্যাশা জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
মতামত দিন