সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা রাবি ছাত্রদল নেতা ‘ট্যাপেন্টাডল’ মাদকসহ আটক
চাঁদাবাজি ও শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান হাসিবকে মাদকসহ আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহীর চৌদ্দপাই মিজানের মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই রিপন কুমারের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে হাসিবকে ‘ট্যাপেন্টাডল’ নামের মাদকসহ আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
হাসিব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এর আগে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক সদস্যের সঙ্গে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর তাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল ছাত্রদল। পরে ২০২৫ সালের ২৫ জুনও তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। ক্যাম্পাসে কয়েকজনকে আটকে চাঁদা দাবির অভিযোগও করা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে।
া
তবে ওই অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে ২০২৫ সালে হাসিবসহ বহিষ্কৃত তিন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে ছাত্রদল। চলতি বছরের ২২ এপ্রিল বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে আবু হাসান নামে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগও ওঠে হাসিবের বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগ ও ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ১১ জুলাই মতিহার থানায় মামলা করেন হাসিব। মামলায় তিনি দাবি করেন, তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। মামলায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সম্পাদক ও রাবি প্রতিনিধি, সকালের বুলেটিনের সম্পাদক, এনটিভি অনলাইনের সম্পাদক এবং ছুরিকাঘাতের অভিযোগকারী শিক্ষার্থী হাসানকে আসামি করা হয়।
এদিকে মাদকসহ হাসিবের আটকের ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, তারা বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো জানেন না। থানায় যোগাযোগ করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মাদক সেবন বা কেনাবেচার সঙ্গে সম্পৃক্ততার ধরন অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্ত হবে এবং অভিযোগের সত্যতা মিললে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত দিন