পূর্ণাঙ্গ কমিটির এক বছর পেরোলেও নারী হলে কমিটি দিতে পারেনি রাবি ছাত্রদল
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর পার হয়েছে পুরো এক বছর। অথচ এই দীর্ঘ সময়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের ছয়টি আবাসিক হলের কোনোটিতেই কমিটি গঠন করতে পারেনি সংগঠনটি। গত বছরের ১৭ আগস্ট শাখা ছাত্রদলের ১১৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির পাশাপাশি ছেলেদের ১১টি হলে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হলেও নারী হলগুলো এখনো কমিটিশূন্য।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর ১৫ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক বছর পরও রাবির ৬টি নারী হলে কমিটি দিতে পারেনি শাখা ছাত্রদল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক বছর পরও নারী হলগুলোতে কমিটি না হওয়ায় সংগঠনটির কর্মী সংকট রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস এষা বলেন, শাখা ছাত্রদলের কমিটি হওয়ার পরেই আমরা নারী হলগুলোতে কমিটি দেওয়ার কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু এরপরই রাকসু চলে আসায় কমিটি নিয়ে আর কাজ করা হয়নি। সব হলেই ছাত্রদলের নেতাকর্মী আছে, কমিটি করা হয়নি এখনো। তবে সব হলেই তালিকা সংগ্রহ চলছে। আশা করা যায়, খুব দ্রুত কমিটি হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ছেলেদের হলগুলোতে দ্রুত কমিটি দেওয়া হয়েছিল। তবে নারী হলগুলোতে কমিটি গঠন কিছুটা কষ্টসাধ্য। শাখা ছাত্রদলের কমিটি হওয়ার পর থেকেই নারী হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ছাত্রদলে যোগদানের জন্য বিভিন্নভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে। শুরু থেকেই এ নিয়ে কাজ চলছে এবং ইতোমধ্যে তালিকাও সংগ্রহ করা হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নারী হলে কমিটি দেওয়া সম্ভব হবে।
এক বছর পেরিয়ে গেলেও নারী হলগুলোতে কমিটি দেওয়া হয়নি কেন জানতে চাইলে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ইতোমধ্যে শাখা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অনেক নারী শিক্ষার্থীকে পদায়ন করা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন হলে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তারা শিগগিরই হল কমিটির তালিকা জমা দেবেন। তালিকা পেলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি নারী হলে কমিটি দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কমিটি একটি প্রক্রিয়াধীন বিষয়। এটি দ্রুত দেওয়া সম্ভব নয়। সাংগঠনিকভাবে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতাসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই করে কমিটি দেওয়া হয়। বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
রাবি ছাত্রদলে নারী শিক্ষার্থীদের সংকট রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে নারী শিক্ষার্থীদের রাজনীতিবিমুখ দেখা গেলেও বর্তমানে ছাত্রদলের ইতিবাচক কার্যক্রম দেখে অনেকেই এগিয়ে আসছেন। আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেক ভালো। দেশের স্বার্থে ও মানবিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীর ছাত্র রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা উচিত। এ লক্ষ্যে নারী শিক্ষার্থীদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
হল কমিটির তালিকা তৈরির অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সভাপতি বলেন, কাজ চলমান রয়েছে। বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমের কারণে এটি এখনো সম্পন্ন হয়নি। তবে শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। কেন্দ্রীয় কমিটি হয়ে গেলে খুব শিগগিরই ৬টি নারী হলে কমিটি দিয়ে দিব।
সার্বিক বিষয়ে জানতে রাবি শাখা ছাত্রদলের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
মতামত দিন