Views Bangladesh Logo

সেপ্টেম্বরেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে মিলবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে যখন চাপ বাড়ছে, তখন জাতীয় গ্রিডে নতুন উৎস হিসেবে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। সব ধরনের কমিশনিং পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই সন্তোষজনকভাবে শেষ হলে আগস্টের শেষ নাগাদ প্রথম গ্রিড সংযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল সরকার।

রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু হয় গত ২৮ এপ্রিল। প্রায় দুই সপ্তাহের প্রক্রিয়া শেষে ১২ মে রিঅ্যাক্টর কোরে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপনের কাজ শেষ হয়। এরপর রিঅ্যাক্টর ও প্রাইমারি সার্কিট পরীক্ষা, বোরিক অ্যাসিড সংযোজন, নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই এবং সাব-ক্রিটিক্যালিটি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কমিশনিং কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর ধীরে ধীরে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম গ্রিড সংযোগের সময় কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় যাবে না। ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থায় দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষার ফল ও কারিগরি সক্ষমতার ভিত্তিতে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রথম ইউনিটের প্রায় ১২০০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতার কাছাকাছি নেওয়া হবে।

রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সঞ্চালন অবকাঠামোর সক্ষমতাকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্রিডে নেওয়ার জন্য নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল সঞ্চালনব্যবস্থা প্রয়োজন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সঞ্চালন অবকাঠামোর কারিগরি প্রস্তুতি ও পরীক্ষার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন সক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট, ফলে দুটি ইউনিট মিলিয়ে কেন্দ্রটির মোট সক্ষমতা দাঁড়াবে ২৪০০ মেগাওয়াট। রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিট এখন নির্মাণপর্ব পেরিয়ে কমিশনিং ও স্টার্টআপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।

জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপের এই সময়ে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পূর্ণমাত্রায় বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে আরও কয়েক ধাপ পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সম্পন্ন করতে হবে। ফলে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও কেন্দ্রটির পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাতে সময় লাগবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ