ঋণে জর্জরিত রোনালদোর আল-নাসর, সংকট কাটাতে আংশিক মালিকানা বিক্রির ভাবনা
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্লাব আল-নাসর চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদল মৌসুমে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো খেলোয়াড় দলে আনতে পারেননি। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে ওঠে এসেছে ক্লাবটির গভীর আর্থিক সংকট। বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত হওয়ায় সৌদি আরবের এই ক্লাবের স্বাভাবিক ট্রান্সফার কার্যক্রম কার্যত থমকে গেছে।
সৌদি সংবাদমাধ্যম আররিয়াদিয়াহ জানিয়েছে, আল-নাসরের মোট ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৮০০ মিলিয়ন সৌদি রিয়ালের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। গত মৌসুমে নেওয়া একাধিক আর্থিক সিদ্ধান্তের প্রভাবেই ক্লাবটি এমন সংকটের মুখে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ইতোমধ্যে স্প্যানিশ ক্লাব মায়োর্কা থেকে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার সামু কোস্তাকে দলে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হলেও চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে উইঙ্গার আবদুলরহমান ঘারিবের নতুন চুক্তিও এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্লাবটির মালিক সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) তিন দফা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আল-নাসরের বর্তমান নির্বাহী ব্যবস্থাপনার আর্থিক ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে। ফলে ক্লাবের নিজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়া পর্যন্ত নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধনের অনুমোদন দেওয়া হবে না।
দ্বিতীয় ধাপে আর্থিক, বাণিজ্যিক ও আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ক্লাবের আয় বাড়ানোর কৌশল নির্ধারণ, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আর্থিক পুনর্গঠনের রূপরেখা তৈরি করবে। এছাড়া তৃতীয় পদক্ষেপ হিসেবে ক্লাবে নতুন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে মালিকানা বিক্রির প্রস্তাবও বিবেচনা করছে পিআইএফ। তবে পুরো ক্লাব বিক্রির পরিবর্তে আংশিক মালিকানা হস্তান্তরের দিকেই তাদের আগ্রহ বেশি। ইতোমধ্যে দুটি সম্ভাব্য প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এদিকে আল-নাসরের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল-হিলাল গত এপ্রিলেই প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন তালালের মালিকানাধীন কিংডম হোল্ডিং কোম্পানির কাছে আংশিক মালিকানা হস্তান্তর করেছে। সেই পদক্ষেপ ক্লাবটির আর্থিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় আল-নাসরের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কেবল নতুন খেলোয়াড় কেনা নয়, বরং আর্থিক ভিত্তি পুনর্গঠন করে দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল ও টেকসই কাঠামো গড়ে তোলা।
মতামত দিন