Views Bangladesh Logo

প্রত্যাবাসন ইস্যুতে সেইফ জোন চায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী

ত আট বছরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের আলোচনা হলেও তা কখনো বাস্তবায়ন হয়নি। বারবার মুখ থুবড়ে পড়া এই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে এবার নতুন করে দেখা দিয়েছে আশার আলো।

২০১৭ সালের আগস্টে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া তালিকাভুক্ত ৮ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার যোগ্য বলে জানিয়েছে দেশটির জান্তা সরকার। চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে আছে আরও ৭০ হাজার রোহিঙ্গা।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে নতুনভাবে আশা জাগিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে প্রত্যাবাসনের আশা জাগানোর পর থেকে আশায় বুক বেধে আছে রোহিঙ্গারা।

সেই আশার কথায় বলছিলেন কুতুপালং এর ক্যাম্প ৭ এর বাসিন্দা মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘প্রত্যাবাসনের সংবাদ শুনে খুশিতে রাতে ঘুম হয়নি। তবে সে খুশি বেশিক্ষণ স্থায়িত্ব পায়নি। কেননা বর্তমানে রাখাইন দখলে আছে আরাকান আর্মির হাতে। তাহলে মিয়ানমার সরকার আমাদের রোহিঙ্গাদের নিয়ে রাখবে কোথায়!’

তিনি আরও বলেন, ‘মুহাম্মদ বলছিলেন-নতুন কোনো গেইমের আয়োজন করেছে মিয়ানমার। বারবার প্রত্যাবাসনের কথা বলে পিছিয়ে আসে তারা।’

ওই বাসিন্দা বলেন, কোন যোগ্যতার বলে মিয়ানমার ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে বাছাই করেছে। যাদেরকে মিয়ানমার বাছাই করেছে তারা কারা, হিন্দু রোহিঙ্গা না মুসলমান রোহিঙ্গা তা নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।

অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের সেইফ জোন নিশ্চিত না করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু না করার পক্ষে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার জুবায়ের।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সরকারের দ্বারা বারবার জেনোসাইডের শিকার হয়েছে রোহিঙ্গারা। এত বছর পরে যদি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু হয় তাহলে তা যেনো একটি নিরাপদ এবং নিশ্চিত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া হয়।’

এদিকে কক্সবাজার এবং আশেপাশের জেলার শ্রমবাজার দখল এবং নিরাপত্তার কথা তুলে ধরে কুতুপালংয়ের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘শুধু পরিবেশ নয় কুতুপালং এলাকা সহ পুরা জেলা এবং আশেপাশের সব জেলায় এখন রোহিঙ্গা শ্রমিকদের দখলে। সেই সাথে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনেকেই চুরি এবং ডাকাতির সাথেও লিপ্ত হয়ে পড়েছে। একটি নিরাপদ প্রত্যাবাসনই এখন এর সমাধান।’

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলার শরনার্থী, ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, যে কোনো সময় প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তত। সেই প্রস্তুতি আগেও ছিল, এখনো আছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম নেয় প্রায় ৩০ হাজার শিশু। গত আট বছরে যা দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন লাখে।

এ জন্য রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, এবারের প্রত্যাবাসন যেনো আশার আলো জ্বালিয়ে নিভে না যায়।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ