রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন এগিয়ে নিতে যাচাই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হচ্ছে: শামা ওবায়েদ
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তথ্য যাচাই দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, যাচাই প্রক্রিয়া কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না। বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে এ কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ইন্সটিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর ধরে রাখা, মানবিক সহায়তা বাড়ানো, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা। মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে বাস্তব প্রত্যাবাসনের দিকে এগিয়ে যাওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে আসা রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশে ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া শিশুদের বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।
মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাবে। তবে আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে সহায়তা দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে দাতা ও অংশীদারদের সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্যাম্পে দেওয়া সহায়তা যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে নতুন করে বাস্তুচ্যুতিকে উৎসাহিত না করে বা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনাকে আরও জটিল না করে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন শামা ওবায়েদ। তাঁর মতে, সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, পরিচয় ও অধিকারের স্বীকৃতি, আইনি মর্যাদা, চলাচলের স্বাধীনতা এবং জীবিকা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ থাকতে হবে। নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পর আবারও বাস্তুচ্যুত হতে হবে না, এমন আস্থা রোহিঙ্গাদের মধ্যে তৈরি করাও জরুরি। এ জন্য সংলাপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দৃঢ় কূটনৈতিক তৎপরতা, জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করা সম্ভব হবে।
মতামত দিন