রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি জটিল, সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক ইস্যু বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, এই সংকটের সমাধান অনেকাংশেই নির্ভর করছে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ এবং সর্বোপরি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার ওপর।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো শরণার্থীকে জোরপূর্বক বা অনিরাপদ পরিবেশে ফেরত পাঠানো যায় না। তাই নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টি করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
তিনি জানান, রাখাইনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে কার্যকর সংলাপের পরিবেশ তৈরির বিষয়ে বাংলাদেশ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রত্যাবাসনের জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই যাতে দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়, সে জন্য সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারের কঠোর নজরদারি ও বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযানের ফলে ক্যাম্পে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ক্যাম্পে ৬৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটলেও ২০২৪ সালে তা কমে ৪৯টিতে এবং ২০২৫ সালে ৩৫টিতে নেমে আসে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে হত্যার ঘটনা ঘটেছে মাত্র ৬টি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন। তাদের মধ্যে ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৩৬ জনের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মিয়ানমার সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য ২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের আওতায় ৯১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মানবিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৯১ মিলিয়ন ডলার পাওয়া গেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল তাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মধ্যেই নিহিত। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
মতামত দিন