রোহিঙ্গা সংকট বিমসটেক-এর এজেন্ডায় রাখা হয়নি কারণ এটি রাজনৈতিক ইস্যু: মহাসচিব
রোহিঙ্গা সংকটকে ‘রাজনৈতিক বিষয়’ হিসেবে বিবেচনা করে এটিকে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)-এর বর্তমান এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব ইন্দ্র মণি পাণ্ডে।
মঙ্গলবার ঢাকায় বিমসটেক সচিবালয়ে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ডিক্যাব) সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিমসটেক কোনো ভূমিকা রাখতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব বলেন, সংস্থাটির এজেন্ডা সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। বর্তমানে রাজনৈতিক কোনো বিষয় বিমসটেকের-এর কার্যক্রমের আওতাভুক্ত নয়।
তিনি বলেন, বিমসটেক-এর এজেন্ডা সদস্য রাষ্ট্রগুলো যৌথভাবে নির্ধারণ করে। এই মুহূর্তে আমাদের এজেন্ডায় রাজনৈতিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত নেই।'
মিয়ানমার এই সংগঠনের সাত সদস্য দেশের একটি। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে ঢাকা।
এর আগে সোমবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তার জন্য বিমসটেককে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তবে মঙ্গলবারের বৈঠকে সংস্থাটির মহাসচিব জানান, বিমসটেক-এর মূল লক্ষ্য—যেসব ক্ষেত্রে সব সদস্য দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সেসব বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
তিনি বলেন, 'বিমসটেক সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন পেলেও সংস্থাটি বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয় এবং রাজনৈতিক ইস্যু এড়িয়ে চলে।'
ইন্দ্র মণি পাণ্ডে আরও জানান, বিমসটেক বর্তমানে সংস্কার ও পুনরুজ্জীবনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য সংস্থাটিকে আরও দক্ষ, কার্যকর ও গতিশীল আঞ্চলিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলা।
মতামত দিন