Views Bangladesh Logo

বিলুপ্তপ্রায় পাখির সংখ্যা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পার্কে রোবট পাখি

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পার্কগুলোতে বিলুপ্তপ্রায় পাখির সংখ্যা বাড়াতে অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কৃত্রিম পালক ও বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে হুবহু আসল পাখির মতো দেখতে রোবট পাখি, যা নাচের ভঙ্গিতে চলাফেরা করে এবং পাখির ডাক নকল করে প্রজাতিগুলোকে নতুন ও নিরাপদ আবাসস্থলে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফল হলে এই প্রযুক্তি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড টিটন ন্যাশনাল পার্কে এ ধরনের প্রকল্প চলছে, যার লক্ষ্য বিলুপ্তপ্রায় পাখিদের পুনর্বাসন।

এসব রোবটিক ডিকয় তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে বাস্তব পাখির পালক, সাধারণ কাপড়-কম্বল, এমনকি ফোমের মতো উপকরণও। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তৈরি এই রোবটগুলোকে মজার ছলে ‘ফ্রাঙ্কেনবার্ড’ বলা হচ্ছে।

রোবট পাখিগুলোকে এমনভাবে প্রোগ্রাম করা হয়েছে, যাতে তারা প্রজনন মৌসুমের নির্দিষ্ট আচরণ—যেমন নাচ, ডানা ঝাপটানো ও ডাক—নকল করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশা, এতে করে ‘সেজ গ্রাউস’সহ বিলুপ্তপ্রায় পাখিরা পুনর্গঠিত এলাকায় ফিরে আসতে উৎসাহিত হবে।

১৯৬৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে সেজ গ্রাউস পাখির সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। একসময় যেখানে ৭৩টি পুরুষ পাখি দেখা যেত, সেখানে গত বছর মাত্র তিনটি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আবাসস্থল ধ্বংস, গবাদি পশুর অবাধ বিচরণ এবং মানব কার্যকলাপকে এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে এসব এলাকায় চারণভূমি পুনর্গঠন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।

তবে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, বিশেষ করে জাতীয় উদ্যানের ভেতরে থাকা জ্যাকসন হোল বিমানবন্দর পাখিদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। পার্ক কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে রানওয়ে সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে প্রাকৃতিক আবাস তৈরি করছে।

গবেষকরা আশা করছেন, চলতি প্রজনন মৌসুমে রোবট পাখির প্রতি আসল পাখিদের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে প্রকল্পটির কার্যকারিতা যাচাই করা সম্ভব হবে। সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য সংরক্ষণ প্রকল্পেও এই রোবটিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ