কিশোরগঞ্জের হাওরে পর্যটকবাহী ট্রলারে ডাকাতি, ৪০ জনের মালামাল লুট
কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চল থেকে ফেরার পথে পর্যটকবাহী একটি ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে ট্রলারে থাকা প্রায় ৪০ জন যাত্রীকে জিম্মি করে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
রোববার (৭ জুন) রাতে জেলার মিঠামইন ও করিমগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী হাসানপুর ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ৪০ জনের একটি পর্যটক দল কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল ঘুরতে যান। রোববার রাতে তারা মিঠামইন থেকে একটি ট্রলারে করে করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখোলা ফেরিঘাটের উদ্দেশে রওনা দেন। ট্রলারটি হাসানপুর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল ডাকাত ট্রলারে উঠে যাত্রীদের জিম্মি করে। পরে তারা যাত্রীদের মারধর করে মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়।
ডাকাতির শিকার রাজিব নামের এক পর্যটক বলেন, ‘আমরা সন্ধ্যার পর মিঠামইন থেকে ট্রলারে উঠি। পথে আকস্মিক ঝড়ের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা ট্রলারটি এক জায়গায় আটকে ছিল। ঝড় থামার পর ট্রলারটি আবার করিমগঞ্জের বালিখলা ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু হাসানপুর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছামাত্রই ডাকাত দল আমাদের ওপর হামলা করে। তারা ট্রলারে থাকা নারী যাত্রীদেরও মারধর ও হেনস্তা করে মোবাইল, স্বর্ণালংকারসহ সবকিছু লুটে নেয়।’
ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, ঘটনার পর তারা কোনোমতে বালিখলা ঘাটে নেমে টুরিস্ট পুলিশের কাছে যান। তবে অভিযোগ জানানো হলেও টুরিস্ট পুলিশ তাঁদের কোনো সহযোগিতা করেনি।
ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ ও নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মিঠামইন নৌ-পুলিশের উপপরিদর্শক বিদ্যুৎ সমাদ্দার বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা জেনেছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে।’
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি, তবে খবর পেয়েছি। এ ঘটনায় নৌ-পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। আমাদের পক্ষ থেকেও ছায়া তদন্ত চালানো হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে