নদ-নদীর পানি বাড়ছে, চার জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা
দেশের কয়েকটি নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় চার জেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে।
পাউবোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের প্রধান সব নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিমমধ্য ও উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস বলছে, আগামী তিন দিন দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং এসব অঞ্চলের উজানে মাঝারি থেকে মাঝারি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতল প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও যমুনার পানি বেড়েছে। আগামী পাঁচ দিন যমুনার পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে। অন্যদিকে গঙ্গা ও পদ্মার পানি বেড়েছে। গঙ্গার পানি আগামী দুই দিন আরও বাড়ার পর পরবর্তী তিন দিন কমতে পারে। পদ্মার পানি আগামী তিন দিন বাড়ার পর দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিছু এলাকায় গঙ্গা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে গড়াই ও মাথাভাঙা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামী তিন দিন এ দুই নদীর পানি সমতল আরও বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও মাগুরা জেলার কিছু এলাকায় গড়াই নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদীর পানি বর্তমানে কমলেও ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়েছে। তিস্তার পানি আগামী দুই দিন বাড়তে পারে এবং তৃতীয় দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। অন্যদিকে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও নদ-নদীর পানিতে পরিবর্তন দেখা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়েছে, আর সুরমার পানি কমেছে। তবে আগামী তিন দিন উভয় নদীর পানি সমতল বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
মতামত দিন