Views Bangladesh Logo

‘আদিবাসী’ পরিচয় দেওয়ার অধিকার অস্বীকার করা যায় না: ইফতেখারুজ্জামান

নিজেকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অধিকার একটি স্বীকৃত মানবাধিকার উল্লেখ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, কেউ নিজেকে আদিবাসী পরিচয় দিতে চাইলে সেই অধিকার অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

একই সঙ্গে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমাভিত্তিক রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানান।

বুধবার (২৯ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ৫ মাস: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে আমাদের পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা শুধু পাহাড়ের মানুষের অধিকার বা আঞ্চলিক সমস্যা নয়; এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সম-অধিকার ও জাতীয় শান্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাঁর ভাষায়, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার ও টেকসই শান্তি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতন্ত্র, সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সম-অধিকারের যে অঙ্গীকার ছিল, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিও তারই ধারাবাহিকতা। তাই চুক্তি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, পরিচয়ের বৈচিত্র্যের স্বীকৃতি ও সম-অধিকারের বিষয়গুলো থাকলেও ‘আদিবাসী’ শব্দটি না থাকায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, আস্থার সংকট দূর করাও জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক পুনর্গঠন এবং সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, পার্বত্য চুক্তি বর্তমান বাস্তবতায় পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাহাড়ের পাশাপাশি সেখানে বসবাসকারী বাঙালি জনগোষ্ঠীকেও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত না করলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না। এ জন্য তিনি একটি জাতীয় কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন।

বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রেক্ষাপটেই শান্তিচুক্তি হয়েছিল। কিন্তু প্রায় তিন দশক পরও এর বাস্তবায়ন না হওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

সভা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন পাহাড়িকে পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগ, চুক্তি বাস্তবায়নের সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি পুনর্গঠন, ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন কার্যকর করা এবং আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে সরকারের নিয়মিত সংলাপ শুরুর দাবি জানানো হয়।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ