Views Bangladesh Logo

রিকশাচালক আজিজুরকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়নি: ডিএমপি

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে গিয়ে ‘মব সন্ত্রাসের’ শিকার রিকশাচালক মো. আজিজুর রহমানকে (২৭) কোনো হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

রোববার (১৭ আগস্ট) বিবৃতিতে ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া ও জনসংযোগ) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে দাবি করা হত্যা চেষ্টার মামলায় নয়, শনিবার (১৬ আগস্ট) আজিজুরকে দণ্ডবিধির নিয়মিত মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আদালতে হাজির করা হয়। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে আজিজুরকে আটক করা হয় বলেও জানান তিনি।

ডিএমপির দাবি, এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওইসব গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। আজিজুরকে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে যে দাবি ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক।

এ বিষয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে এবং প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করতে বিবৃতিতে অনুরোধ জানানো হয়।

তবে আজিজুরের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি শনিবার সাংবাদিকদের জানান, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে গিয়ে ‘মব ভায়োলেন্স’-এর শিকার হন এই রিকশাচালক। পরে পুলিশ তাকে গত বছরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনকারী মো. আরিফুল ইসলামকে হত্যা চেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। 


আজিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে করা মামলা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।


মামলাটির অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ৪ আগস্ট ধানমন্ডি থানার নিউমার্কেট থেকে সায়েন্স ল্যাবের দিকে জুলাই আন্দোলনের মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন ভুক্তভোগী মো. আরিফুল ইসলাম। বেলা আড়াইটায় ওই মিছিলে গুলি পেট্রলবোমা ও হাতবোমা নিক্ষেপ করা হলে আহত হন তিনি। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দুই মাস চিকিৎসা শেষে সুস্থ হন। এ ঘটনায় গত ২ এপ্রিল ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলাটি করেন আরিফুল।

ওই মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবেই তার মক্কেল রিকশাচালক আজিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

অ্যাডভোকেট রাখি জানান, মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানমণ্ডি থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান আসামি আজিজুরকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। অন্যদিকে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন আসামিপক্ষ। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান জেনিফারের আদালত।

পরস্পরবিরোধী দাবিগুলো জনমনে বিভ্রান্তি বাড়িয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই মনে করছেন আসামিপক্ষ।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ