ফেনীতে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের ঘোরাঘুরিতে নিষেধাজ্ঞা, মাইকিং ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে ফেনীতে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের চা-দোকানে আড্ডা দেওয়া এবং অকারণে ঘোরাঘুরি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জনসচেতনতা তৈরির জন্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হলেও এর ভাষা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানায়, শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করছে এবং শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয় আড্ডা পরিহার করে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
গত ১২ জুলাই জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার নিয়ে আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে শহরে মাইকিং করে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের বাইরে ঘোরাঘুরি, চা-দোকানে আড্ডা দেওয়া এবং স্কুল-কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান না করার আহ্বান জানানো হয়।
তবে মাইকিংয়ের ভাষা নিয়ে সমালোচনা করেন মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের চলাফেরায় এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মানবাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
অন্যদিকে, শিক্ষক নেতাদের একাংশ মনে করেন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীদের অযথা বাইরে অবস্থান নিরুৎসাহিত করা প্রয়োজন। তবে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আগে যাচাই-বাছাই, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং কাউন্সেলিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, মাইকিংয়ের ভাষায় কিছুটা অতিরঞ্জন হয়েছে। এটি আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ঘোষণার উদ্দেশ্যে ছিল না। মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর চায়ের দোকান, পার্ক ও অন্যান্য স্থানে অপ্রয়োজনীয় আড্ডা থেকে বিরত রাখা এবং অভিভাবকদের আরও সচেতন করা।
মতামত দিন