একাত্তরের হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা’ স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব উত্থাপন
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে মার্কিন কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।
গত শুক্রবার ওহিও অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন। বর্তমানে এটি প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির পর্যালোচনায় রয়েছে।
প্রস্তাবে ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়েছে, সে সময় বাংলাদেশে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, যৌন সহিংসতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর পরিকল্পিত দমন-পীড়ন চালানো হয়।
মার্কিন আইনসভা বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘গভট্র্যাক’-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটিতে তৎকালীন মার্কিন কর্মকর্তাদের নথি, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যসূত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করলেও পাকিস্তানি সামরিক সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর দমন অভিযান চালায় পাকিস্তানি বাহিনী।
প্রস্তাবে ঢাকায় তৎকালীন মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাডের পাঠানো ঐতিহাসিক বার্তার উল্লেখ রয়েছে, যেখানে তিনি এ সহিংসতাকে ‘নির্বাচিত গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দেন। এছাড়া সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের প্রতিবেদন এবং মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড এম কেনেডির নেতৃত্বাধীন উপকমিটির রিপোর্টেও সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চালানো নৃশংসতার প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টসের এক গবেষণায় ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।
যদিও প্রস্তাবটি পাস হলেও তা সরাসরি আইন হিসেবে কার্যকর হবে না, তবে এটি ১৯৭১ সালের নৃশংসতাকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের মতে, ঐতিহাসিক সত্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে এ স্বীকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে