সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র গোলাম সারওয়ার বিহীন সাত বছর
বাংলাদেশের সাংবাদিকতা অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, আধুনিক সাংবাদিকতার পথিকৃৎ এবং দৈনিক সমকাল-এর সাবেক সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৮ সালের ১৩ আগস্ট সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৫ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় তিনি সমকাল-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতার আঙিনায় গোলাম সারওয়ার ছিলেন সততা, পেশাদারিত্ব, নীতি ও মূল্যবোধের প্রতীক। তিনি ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রগতিশীলতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অক্লান্ত ধারক-বাহক।
১৯৪৩ সালের ১ এপ্রিল বরিশালের বানারীপাড়ায় জন্ম নেওয়া এই গুণী সাংবাদিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে ১৯৬২ সালে তিনি দৈনিক আজাদী-তে বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। একই বছর দৈনিক সংবাদ-এ সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি বরিশালের বানারীপাড়ায় প্রতিরোধ আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেন।
স্বাধীনতার পর তিনি কিছু সময়ের জন্য শিক্ষকতা করেন। ১৯৭২ সালে দৈনিক ইত্তেফাক-এ জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়ে সহকারী বার্তা সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদক হিসেবে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে গোলাম সারওয়ার ছিলেন দেশের সম্পাদক সমাজের এক অগ্রণী কণ্ঠস্বর। সহকর্মীরা তাকে স্নেহভরে ডাকতেন 'সাংবাদিকদের শিক্ষক' নামে।
গোলাম সারওয়ার সাহিত্যানুরাগীও ছিলেন। তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে রঙিন বেলুন, সম্পাদকের জবানবন্দি, অমিয় গরল, আমার যত কথা স্বপ্ন বেঁচে থাক উল্লেখযোগ্য ।
সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ২০১৪ সালে একুশে পদক, ২০১৬ সালে কালচারাল জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের আজীবন সম্মাননা এবং ২০১৭ সালে আতাউস সামাদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন।
তার স্মরণে আজ দুপুর ১২টায় সমকাল পরিবার ও স্বজনরা মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করবেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে