বগুড়ায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘হত্যা মামলা’, ফোরকানের মরদেহ উত্তোলনে স্বজনদের বাধা
বগুড়ার শাজাহানপুরে বিএনপির মিছিলে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে যুবদল নেতা ফোরকান আলীর মৃত্যু হলেও সরকার বদলে তোলা হয় তাকে ‘গুলি করে হত্যার’ অভিযোগ। হত্যা মামলায় আসামি করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। মামলাটির মাসখানেক পর কবর থেকে ফোরকানের মরদেহ তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু ফোরকানের স্বজন ও স্থানীয়দের বাধায় মরদেহ উত্তোলন করা যায়নি।
ফোরকান (৪২) ছিলেন শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর পর স্বজনদের আবেদনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার মরদেহ দাফন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের সুফিপাড়ায় কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনে যান জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদমান আকিফ। তবে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে যান তিনি।
এ সময় নিহত ফোরকানের ভাই ওমর ফারুক বলেন, ‘আমার ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। কিন্তু চাঁদাবাজি করতেই মিথ্যা মামলাটি করেছেন বাদী ও বিএনপির কিছু লোকজন। মামলাটির বিষয়ে আমরা কিছুই জানতাম না’।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাইয়ের মৃত্যুর পর হাসপাতাল থেকে মরদেহ আমি বাড়িতে নিয়ে আসি। তার শরীরে গুলি বা আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই ভাইকে দাফন করি’।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদমান আকিফ ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলন করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু মৃতের পরিবার সম্মতি না দেয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, মিথ্যা অভিযোগে করা মামলায় তারা কবর থেকে মরদেহ তুলতে দেবেন না। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই ফোরকান মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
তিনি বলেন, ‘ফোরকানের মৃত্যুর পর শাজাহানপুর থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতেও (জিডি) মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগ বলা আছে। ফোরকানের বাবা মামলার তদন্ত বন্ধ চান। এ বিষয়ে আদালতে তিনি আপিল করবেন বলেও জানিয়েছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে যা যা জানা গেছে, আমার প্রতিবেদনে সবকিছু উল্লেখ করে আদালতে জমা দেবো’।
এর আগে গত ৫ নভেম্বর মিথ্যা অভিযোগ দেয়ায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলাটির তদন্ত না করতে বগুড়ার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন জানান ফোরকানের বাবা আব্দুল কুদ্দুস।
আবেদনে তিনি জানান, গত বছরের ৩ ডিসেম্বর সকাল সোয়া সাতটার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের সাজাপুরে তৎকালীন সরকারবিরোধী বিএনপির মিছিলে অংশ নেন ফোরকান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধাওয়ায় হার্ট অ্যাটাকে মারা যান তার ছেলে। কিন্তু এ ঘটনায় উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক ইউনুস আলী গত ৩০ অক্টোবর আদালতে ‘হত্যা মামলা’ করেন। মামলাটি করার আগে-পরে তাদের সঙ্গে আলোচনাও করা হয়নি।
আব্দুল কুদ্দুস অভিযোগ করেন, মামলাটি ঘিরে শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলাম ও যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমানসহ বাদী চাঁদাবাজি করছেন। মামলার তদন্ত বন্ধ চেয়ে তিনি বলেন, ফোরকানের মরদেহের ময়নাতদন্তও চান না তিনি।
মামলাটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে হত্যার নির্দেশদাতা এবং স্থানীয় নেতাকর্মীসহ ১৬০ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০০-৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করেন ইউনুস আলী। বাদীর অভিযোগ, যুবদল নেতা ফোরকানকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে