বিডিআর হত্যাযজ্ঞের পেছনের সত্য উন্মোচনেই পুনঃতদন্ত: ফজলুর রহমান

পিলখানায় আধাসামরিক বাহিনী তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদর দপ্তরের ভেতরে হত্যাযজ্ঞের পেছনের সত্য উন্মোচনে ‘সুসংগঠিত’ উপায়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল (অব.) এ এল এম ফজলুর রহমান।
‘১৬ বছর আগের ঘটনার সত্য উন্মোচন জটিল কাজ। তবে কমিশন সুগঠিত পদ্ধতিতে এগিয়ে চলেছে’- বলেন তিনি।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ওই হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।
বিডিআরের (বর্তমান বিজিবি) সাবেক এই মহাপরিচালক বলেন, রক্তাক্ত বিদ্রোহের পাঁচটি প্রাসঙ্গিক দিকে দৃষ্টি দিয়ে প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ সংগ্রহ করছে কমিশন।
তিনি বলেন, পিলখানার ঘটনার প্রকৃত প্রকৃতি উদঘাটন, হত্যাযজ্ঞের অপরাধী, সহযোগী, ষড়যন্ত্রকারী, প্রমাণ ধ্বংসকারী, প্ররোচনাদাতাদের চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে।
পুনঃতদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কমিশনের সামনে এখন পর্যন্ত যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল, দুইজন মেজর জেনারেল, পাঁচজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, চারজন কর্নেল, চারজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল, সাতজন মেজর, দুইজন ক্যাপ্টেন, সাতজন বিডিআর সৈনিক এবং নিহতদের পরিবারের তিনজন সদস্য।
‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমাদের কাজ সম্পন্নের আশা করছি। তবে প্রয়োজনে আরও কিছু অতিরিক্ত দিন সময় নিতে পারি’- বলেন ফজলুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘কমিশন এখন কাজের অংশ হিসেবে শেখ হাসিনা এবং তৎকালীন সেনাপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মঈন উ আহমেদের সাথে কথা বলতে আগ্রহী’।
কমিশন ওই হত্যাযজ্ঞের পর পরই দাখিল হওয়া পূর্ববর্তী দুটি তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নেবে কি না, জানতে চাইলে কমিশনের প্রধান বলেন, তারা ওই দুটি কমিটির প্রতিবেদনও পেয়েছেন।
সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া তৎকালীন বিডিআর কর্মীদের সাথে কমিশন কথা বলতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কমিশন প্রাক্তন বিডিআর সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করবে না।
তবে, প্রাক্তন বিডিআর কর্মীরা সরাসরি অথবা https://www.bdr-commission.org ওয়েবসাইটে তথ্য দিতে চাইলে কমিশনের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে